
মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল দিন কয়েক আগে। তবে এবার গুঞ্জনকে সত্যি করে ‘সত্যিই’ চলে গেছেন বলিউডের হি-ম্যান খ্যাত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল। ভারতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফিল্মফেয়ার দাবি করছে, ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন এই অভিনেতা।
দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের খবর, দীর্ঘ অসুস্থতার পর সকালে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র সিং দেওল। অভিনেতার মৃত্যু খবর নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন প্রযোজনা সংস্থা ধর্ম প্রডাকশন্স এবং বিখ্যাত প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহরসহ আরও অনেকে। তবে বেলা ৩ টা ২৫ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ধর্মেন্দর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘোষণা আসেনি।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন অভিনেতা। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন হি-ম্যান। কিন্তু সোমবার বেলা বাড়তেই গণমাধ্যমগুলোতে আসতে থাকে দুঃসংবাদ। এই ঘটনায় শোকে কাতর হয়ে পড়েছে বলিউডপাড়া।
এনডিটিভি, পিংকভিলা, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, সকাল থেকে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগে ভিলে পার্লে শ্মশানে পৌঁছে যান তার স্ত্রী হেমা মালিনী। এসময় সঙ্গে ছিলেন মেয়ে এষা দেওল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চনসহ আরও অনেকে ৷ সকালে অভিনেতার বাড়ির সামনে অ্যাম্বুলেন্সও দেখা গিয়েছিল। এরপরই ছড়ায় গুঞ্জন। তবে এবারের গুঞ্জনটিকে সত্য দাবি করছে ভারতের প্রায় সব মিডিয়া।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতের সিনেমার ছয় দশকের একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখন তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে সব গুঞ্জন থামিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তবে এবার আর ফেরেননি।
ছয় দশকের ক্যারিয়ারে রোমান্টিক নায়ক, অ্যাকশন হিরো থেকে কমেডি কিং—সব কিছুতেই ফিট ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৬০ সালে অভিষেক। তারপর থেকেই একের পর এক চরিত্রে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রমাণ করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে ৩০০-রও বেশি ছবি রয়েছে। ১৯৯৭ সালে তিনি পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাকে সম্মানিত করে পদ্মভূষণ উপাধিতে।