
নিউইয়র্কের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে বাঙালি সংস্কৃতি, গান ও আড্ডার আবহে আনন্দঘন এক সন্ধ্যা কাটিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নিউইয়র্ক সিনিয়র ডে কেয়ারের সিইও মোহাম্মদ জাহিদ আলম এবং উৎসব ডট কমের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রায়হান জামান প্রেজেন্টস ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস অব ইউএসএ’র আয়োজনে গত ৩ অক্টোবর লং আইল্যান্ড সিটির ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মিউজিক্যাল কনসার্ট ‘অ্যান আনফরগেটেবল মিউজিক্যাল নাইট’।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কণা ও ঝিলিকের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়ামে গান, নৃত্য ও আড্ডায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সিলভি আকন্দ ও নাদিয়া চৌধুরী। শারমীন সিরাজ সোনিয়ার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় শুরু হয় মূল আয়োজন। শুরুতেই মঞ্চে আসেন কণ্ঠশিল্পী ঝিলিক। রবীন্দ্রসংগীত ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে তিনি সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার জনপ্রিয় গানসহ বিভিন্ন ক্লাসিক ও লোকগান পরিবেশন করেন।
এরপর রাসেল আহমেদের পরিচালনায় ‘ফিউশন ডান্স ট্রুপ ইউএসএ’র নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। চমৎকার কোরিওগ্রাফি ও দলীয় পরিবেশনায় দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। পরে মঞ্চে আসেন সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। তাঁর জনপ্রিয় গান ‘তুই কি আমার হবি রে’, ‘এ জীবনে যারে চেয়েছি’, ‘কন্যা কন্যা কন্যারে’, ‘কিশোরী’, ‘তোকে ছাড়া বাঁচা মুশকিল’, ‘তুমি আমার জীবন’ এবং ‘আমার সোনা বন্ধু রে’সহ বেশ কয়েকটি গান দর্শকদের মাতিয়ে রাখে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চ মাতান কণা। ‘ধিন তা না’, ‘বৈশাখী বিকেল বেলা’, ‘রেশমি চুড়ি’, ‘কন্যা রে’ এবং ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’সহ জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন তিনি। বিশেষ করে ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’ গানটি প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিক আবহ তৈরি করে।
আয়োজকদের মতে, ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস অব ইউএসএ’ মূলত নিউইয়র্কে বসবাসরত বিভিন্ন পেশার নারীদের একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সেখানে নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা ভাগ করে নিতেন। সময়ের সঙ্গে এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন সুন্দর ও প্রাণবন্ত আয়োজন তাদের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তারা মুগ্ধ হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন আরও চমৎকার ও বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রত্যাশা জানান তারা।