
টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত ধনী যাত্রীদের একজন ইসিডর স্ট্রাউসের মরদেহ থেকে উদ্ধার করা একটি স্বর্ণের পকেট ঘড়ি নিলামে রেকর্ড ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ধরনের সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। ইসিডর স্ট্রাউস ও তার স্ত্রী আইডা ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিকে করে ভ্রমণের সময় জাহাজটি বরফখণ্ডে আঘাত পেয়ে ডুবে গেলে দু’জনই প্রাণ হারান। ওই দুর্ঘটনায় ১৫০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার কয়েক দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে স্ট্রাউসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখনই তার সঙ্গে পাওয়া যায় ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের জুলেস জারগেনসেন ব্র্যান্ডের পকেট ঘড়িটি। পরিবার চার প্রজন্ম ধরে এটি সংরক্ষণ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ডিভাইজেস শহরের হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলাম ঘরে ঘড়িটি তোলা হলে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়।
জার্মানিতে জন্ম নেওয়া ইসিডর স্ট্রাউস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেসিজ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সহ-মালিক। টাইটানিক ডুবির রাতে আইডাকে লাইফবোটে উঠতে বলা হলেও তিনি স্বামীকে ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং তার সঙ্গেই মৃত্যুবরণ করেন। আইডার মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।
নিলামে টাইটানিকের লেটারহেডে লেখা আইডা স্ট্রাউসের একটি চিঠি ১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়। জাহাজের যাত্রী তালিকা যায় ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে। আর রেসকিউ জাহাজ আরএমএস কারপাথিয়ার নাবিকদের দেওয়া একটি স্বর্ণপদক বিক্রি হয় ৮৬ হাজার পাউন্ডে।
সব মিলিয়ে টাইটানিক–সম্পর্কিত নানা স্মারকের এই নিলাম থেকে প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড উঠেছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ঘড়িটির অভূতপূর্ব মূল্য টাইটানিককে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের আগ্রহেরই প্রমাণ। তার ভাষায়, টাইটানিকের প্রতিটি যাত্রী ও নাবিকের আলাদা গল্প রয়েছে, আর ১১৩ বছর পরও স্মারকের মাধ্যমে সেই গল্পগুলো ফিরে আসে। তিনি আরও যোগ করেন, স্ট্রাউস দম্পতির সম্পর্ক ছিল টাইটানিকের এক ‘অক্ষয় প্রেমের গল্প’, আর আইডার স্বামীকে ছাড়তে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ভালোবাসার গভীরতারই নিদর্শন, যা ঘড়িটির রেকর্ডমূল্যে প্রতিফলিত হয়েছে।