কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রভাবিত করতে ইসরাইলের ভুয়া থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা

প্রযুক্তি ডেস্ক
  ২১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০১


ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটগুলো কীভাবে সাড়া দেবে তা প্রভাবিত করতে ইসরাইল একটি ভুয়া থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। ডিসইনফরমেশন ও গবেষণা সাময়িকী ‘রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাতে ডেইলি সাবাহ-এ প্রকাশিত খবর থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন বিষয়ক মার্কিন ধাঁচের একটি গবেষণাধর্মী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরে। 
তবে এটি কোনো স্বাধীন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নয়। 
ওয়েবসাইটের একটি ডিসক্লেইমারে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সরকারের বিজ্ঞাপন সংস্থার পক্ষ থেকে ‘পিরো ইনক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে। পিরো ইনক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গ, যিনি মার্কিন পরিচালক স্পাইক লি-র ২০০৬ সালের চলচ্চিত্র ‘ইনসাইড ম্যান’-এর প্রযোজক ছিলেন। 
সংস্থাটি গত ৬ আগস্ট থেকে ১০০টিরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ‘১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির কারণ কী ছিল?’ এবং ‘গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি কী?’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছে।
এআই চ্যাটবট ও এলএলএম (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলস) মডেলগুলোর কাছে বিষয়বস্তু গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য প্রতিবেদনগুলোতে পাদটীকা, সূচিপত্র, সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এবং নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। 
পিরো ইনক তাদের এই সেবাকে ‘এআই স্টোরি অপ্টিমাইজেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা দাবি করে, এলএলএম কীভাবে কোনো তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে, ঠিক সেই অনুযায়ী তাদের কনটেন্ট তৈরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়। 
ডিসইনফরমেশন ট্র্যাকিং সংস্থা ‘নিউজগার্ড’-এর বিশ্লেষক অ্যালিস লি জানান, ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান, তথ্য এবং শক্তিশালী সাইটেশন বা উৎস পছন্দ করে—যা এই নিবন্ধগুলোর সবকটিতেই রয়েছে।’ 
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ নাম, লেআউট এবং লাল-সাদা-নীল রঙের আমেরিকান পতাকার থিম ব্যবহার করে সাইটটি একদম খাঁটি ও নির্ভরযোগ্য আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাঙ্কের নিখুঁত অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। 
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাগুলো পিয়ার-রিভিউড ও একাডেমিক বলে দাবি করা হলেও, এতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারি উৎসগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল সরকার এই কাজের জন্য পিরো ইনক-কে ৯ লাখ ডলার প্রদান করেছে। ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ‘হাভাস মিডিয়া’-র মাধ্যমে এই উপ-চুক্তিটি পরিচালিত হয়।