গাজায় ইসরাইলের ‘নির্যাতন-নিপীড়নে’ জাতিসংঘের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:১৬

জাতিসংঘের নির্যাতন-নিপীড়নবিরোধী কমিটি সম্প্রতি ইসরাইল, আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা এবং বাহরাইনের প্রতি তাদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই কমিটি বিশেষভাবে ইসরাইলের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে- তাদের ধারা অনুযায়ী দেশটির মানবতাবিরোধী আচরণ এবং নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রুটি দেখা যাচ্ছে।
কমিটি স্পষ্টভাবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসসহ অন্যান্য সংগঠনের ইসরাইলে আক্রমণকে নিন্দা জানিয়েছে। তবে তারা ইসরাইলের জবাবদিহিতার ওপরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 
সম্প্রতি কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজার ওপর ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া ছিল চরম পর্যায়ের, যা ফিলিস্তিনে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও দুর্ভোগের কারণ হয়েছে।’ 
কমিটি আরও জানিয়েছে, ‘বন্দিদের অধিকার ভেঙে আটককেন্দ্রগুলোর জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে খারাপ হয়েছে। এটি যেন সমষ্টিগত শাস্তির জন্য একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্র নীতি।’
তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর সংগঠিত ও বিস্তৃত নির্যাতন এবং দুর্ব্যবহার একটি বাস্তব নীতি হিসেবে কাজ করছে এবং ৭ অক্টোবরের পর তা আরও প্রকট হয়েছে।’ 
একই সঙ্গে, ইসরাইলের ‘অবৈধভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে অব্যাহত অভিযান’ ফিলিস্তিনিদের জন্য নিষ্ঠুর ও অমানবিক জীবনযাত্রার পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেছে কমিটি।
জাতিসংঘের এই কমিটি ইসরাইলকে নির্দেশ দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে বর্তমান সশস্ত্র সংঘর্ষে সংঘটিত সব নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ পরীক্ষা করা যায় এবং দায়ীদের বিচার করা হয়। যাতে বিশেষ করে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়। 
এছাড়াও গাজার মধ্যে মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ কর্মীদের প্রবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষ এই কমিটি।
আইনসংক্রান্ত দিক বিবেচনায় কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ইসরাইলের আইন এখনো ‘পৃথকভাবে নির্যাতনের অপরাধকে’ অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করে না।  দেশটির আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয়তার আড়ালে অপরাধ থেকে মুক্তি পেতে পারে। 
জাতিসংঘ কমিটি এ বিষয়ে ইসরাইলকে নির্যাতনের জন্য পৃথক অপরাধ আইন প্রণয়ন, ব্যবহৃত ‘বিশেষ জোর প্রয়োগ’-এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ এবং কোনো ব্যাতিক্রমী পরিস্থিতিতেই নির্যাতন বা দুর্ব্যবহার বৈধ নয়- তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। 
একই সঙ্গে কমিটি হামাসের আক্রমণে ইসরাইলে প্রাণহানি ও মানসিক ক্ষতির জন্য শোক প্রকাশ করেছে এবং এই হামলার জন্য নিন্দা জানিয়েছে।
পাশাপাশি এই কমিটি ইসরাইলের ‘অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চল’ সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা মান্য করার স্বীকারোক্তিও নোট করেছে।