‘ইরানিদের হত্যাকারী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৮

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসতে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্দোলনকারীদের উসকানিও দিয়েছেন। ইরান সরকার বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পাল্টা ছুঁড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০০ মানুষ মারা গেছেন। ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দুষছেন। ইরান সব সময় বলে আসছে, বিক্ষোভে ইন্ধন যোগাচ্ছে এই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।
এরআগে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিঞ্জানি এক্স লিখেছেন, ‘আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি: ১- ট্রাম্প, ২- নেতানিয়াহু।’
ট্রাম্প ইরানিদের দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মিশিগানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সাহায্য আসছে’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদেরই বুঝে নিতে হবে। আমি দুঃখিত।’
পরে ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তবে সেই ব্যবস্থাগুলো কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরান সরকারের দাবি, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসেছে। বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিলে শত শত বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়। ভয়াবহ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে সৃষ্ট এই বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সোমবার জানিয়েছিলেন, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো প্রথমে ‘শান্তিপূর্ণ ও বৈধ’ ছিল, কিন্তু দ্রুতই তা পথ হারায় এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় দেশের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে’ রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে ‘শান্ত ও সংযমের’ সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু পরে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে এর গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ বিক্ষোভকারী এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এক ইরানি কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,০০০।