মেনিনজাইটিস সংক্রমণ বাড়ায় যুক্তরাজ্যে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ মার্চ ২০২৬, ১৪:২৩

যুক্তরাজ্যের ক্যান্টারবেরিতে মেনিনজাইটিস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে।
ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) নিশ্চিত করেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং মেনিনজাইটিস বি টিকাদান কার্যক্রম বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। আগে এটি কিছু আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমিত থাকলেও এখন ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট ও ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটির সব শিক্ষার্থী ও স্টাফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া চারটি স্থানীয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ৫ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে ক্যান্টারবেরির ক্লাব কেমিস্ট্রি নাইটক্লাবে যাওয়া ব্যক্তিদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ভ্যাকসিনের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে আরও ২০ হাজার ডোজ বাজারে ছেড়েছে।
সংক্রমণের মূল কেন্দ্র পূর্ব কেন্ট হলেও এর ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ল্যাবরেটরিতে যাচাইকৃত তথ্যে দেখা গেছে, লন্ডনের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যার সঙ্গে ক্যান্টারবেরি ক্লাস্টারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে ভ্রমণ করা দুজনের শরীরেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের যেকোনও প্রান্তে অবস্থানকারী, নির্দিষ্ট সময়ে ওই নাইটক্লাবে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য সারাদেশের জিপিদের পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএইচএসএ।
এদিকে, সরকারের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে, মহামারির সময় তরুণদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় কোনও পরিবর্তন ঘটেছে কি না। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখছেন, লকডাউনের সময় সামাজিক মেলামেশা বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের মধ্যে মেনবি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে কি না। যদিও বিষয়টি এখনও গবেষণার পর্যায়ে, তবু সংক্রমণ ঘিরে ‘সুরক্ষা বেষ্টনী’ তৈরির কৌশল নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫০০ ডোজের বেশি অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনও কম হলেও এই ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেইনটি অত্যন্ত শক্তিশালী। তরুণদের হ্যাংওভার বা ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তীব্র মাথাব্যথা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সংস্পর্শে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভ্যাপ, পানীয় বা সিগারেট ভাগাভাগি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শরীরে অস্বাভাবিক লাল দাগ বা হঠাৎ তীব্র জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।