
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নবান্নে (সচিবালয়) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক জনকল্যাণমুখী ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে কার্যকর করার মতো বড় ঘোষণা এসেছে বৈঠক থেকে।
রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বর্তমানের তুলনায় আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হলো।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি আগেই বলেছিলেন যে রাজ্যে দীর্ঘকাল নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। সেই কথা মাথায় রেখেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের সুযোগ করে দিতে আমরা বয়সের সীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাজ্যে অবশেষে চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য যোজনা। সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হলো বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, কিষাণ বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন থেকে রাজ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। জেলাশাসকদের দ্রুত আবেদনপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য জমি হস্তান্তরের জট খুলেছে নতুন মন্ত্রিসভা। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যের জনবিন্যাস রক্ষা করতে এটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ।
রাজ্যে চালু থাকা আগের সরকারের কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয় কেউ এই সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা বিএনএসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা পুরোনো আইপিসি ও সিআরপিসির স্থলাভিষিক্ত হলো।
আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেই বৈঠকে আরজি কর ইস্যুসহ নারী নির্যাতন রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নির্মূল করা এবং সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও পে-কমিশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।