ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলা ব্যাপক সফল, দাবি রুবিও’র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০২ জুন ২০২৬, ২২:১৮

ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলাকে ‘ব্যাপক সফল’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও সিনেটর মার্কো রুবিও। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হামলার যৌক্তিকতা ও রণকৌশলগত অর্জনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। 
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এই হামলাকে ওয়াশিংটনের একটি অন্যতম বড় সামরিক বিজয় হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি।
সম্প্রতি পরিচালিত এই যৌথ হামলার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযান নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা তৈরি হলেও রুবিও এর সামরিক কার্যকারিতাকেই প্রধান করে দেখিয়েছেন। 
তিনি অকপটে বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরি নিয়ে আপনাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে—কেউ হয়তো এটি পছন্দ করেছেন, আবার কেউ হয়তো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, এই হামলাটি তার সুনির্দিষ্ট সামরিক উদ্দেশ্য অর্জনে অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল ছিল।
রুবিও তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, যৌথ বাহিনীর একের পর এক নিখুঁত হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্পের ভিত্তি নাটকীয়ভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা দেশটিকে নতুন করে সামরিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধাক্কা দিল।
সবচেয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্যটি এসেছে ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে। তেহরানের নৌ-শক্তির বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে মার্কো রুবিও অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, আজকে ইরানের কোনো নৌবাহিনী বলতে আর কিছুর অস্তিত্ব নেই। এটি এখন পুরোপুরি অতীত। ইরানের নৌবহরের যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তা এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।
মার্কো রুবিও’র এমন প্রকাশ্য ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা কৌশল নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা।