পারিবারিক নিপীড়ন রুখতে খালাতো-মামাতো ভাইবোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করল সুইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০২ জুন ২০২৬, ২৩:২০


পারিবারিক সহিংসতা, অনার-বেজড বা সম্মান রক্ষার্থে নিপীড়ন এবং বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ  সুইডেন। দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ও চাচাতো ভাইবোনের (ফার্স্ট কাজিন) মধ্যে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে একটি নতুন আইন পাশ করা হয়েছে। 
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। 
নতুন এই আইনের অধীনে ভাইবোনের বিয়ের ওপর শর্তহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে বেশ কিছু কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।  এই যেমন, কোনো দম্পতি সুইডেনের এই আইন এড়াতে বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুইডেনে সেই বিয়ের কোনো আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। 
সরাসরি বংশানুক্রমিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিজের ভাইবোনের সন্তান বা তাদের বংশধরদের সঙ্গে কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। পাশাপাশি বৈবাহিক সম্পর্কের এই নিষেধাজ্ঞা সৎ ভাইবোন (হাফ-সিবলিং) এবং দত্তক নেওয়া ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। 
সুইডিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল উদ্দেশ্য চিকিৎসা বা জিনগত ঝুঁকির চেয়েও বড় একটি সামাজিক সংকট মোকাবিলা করা। 
মূলত বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনার-বেজড (সম্মান রক্ষার্থে) যে নিপীড়ন, সহিংসতা ও পারিবারিক চাপ তৈরি করা হয়, তা রুখতেই এই পদক্ষেপ।
কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক সময় পরিবারের প্রধানদের চাপে তরুণ-তরুণীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক খালাতো-মামাতো ভাইবোনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এই আইনটি কার্যকর হলে ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীরা বিশেষ করে নারীরা, পরিবারের জোরপূর্বক বিয়ের চাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য একটি আইনি ঢাল পাবেন।  

ইউরোপে নতুন নজির 
ইউরোপের সিংহভাগ দেশে কাজিনদের মধ্যে বিয়ে বৈধ হলেও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে এই প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে নরওয়ে একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবার সুইডেনও সেই পথেই হাঁটল। আগামী ১ জুলাই থেকে আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে এটি দেশটির পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে এক বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

সূত্র: সুইডেন হেরাল্ড