
ব্রাজিলের আমদানিপণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২২ জুলাই থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) এ ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খরব এএফপির।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ শুল্কের আওতা থেকে গোশত, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বেশ কিছু পণ্যকে বাদ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোও এ শুল্কের বাইরে থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের কারণে মার্কিন কর্মী ও উৎপাদকরা গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন এখনো প্রস্তুত।
এর আগে মার্কিন তদন্তে ব্রাজিলের কিছু নির্দিষ্ট নীতিকে ‘অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক এবং মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করার পর, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অর্থনৈতিক এজেন্ডা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় ব্রাজিলের ওপর এই শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। একই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছর আরও বেশ কিছু দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ব্রাজিলের ক্ষেত্রে মূলত ডিজিটাল বাণিজ্য ও দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্সের’ কারণে তৈরি হওয়া ‘অন্যায্য’ প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, পিক্সের মতো ব্যবস্থার কারণে মার্কিন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা আলোচনার পথ খোলা রাখলেও নিজেদের উদ্বেগের দ্রুত সমাধান চায়। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল যেভাবে মেক্সিকো ও ভারতকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রও ঠিক তেমন অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দাবি করছে। তবে এই সেকশন ৩০১ তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে— এমন সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই ঘোষণার পর ব্রাজিলের কাছ থেকে কোনো পালটা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশা করছে না, তবুও তারা সতর্ক করেছে যে কোনো ধরণের পালটা চাপ আসলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তবে সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।
চলতি মাসে ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ব্রাজিলের অনুদারপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো নতুন এই শুল্ক আরোপ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিও যুক্তি দেখান, নতুন শুল্কের কারণে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই গণশুনানিতে আরও ডজনখানেক প্রতিনিধি অংশ নেন। গত বছর জাইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান চেষ্টার বিচারের জের ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর তীব্র শুল্কারোপ করেছিল, যেখানে বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। পরে দুপক্ষের আলোচনার পর লুলার কূটনৈতিক সাফল্যে সেই শুল্কের বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্কের এই ঘোষণা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আবারও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল।