
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটির জাহাজ চলাচল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান বলছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালু রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানকে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে প্রণালিটির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান কোনো চুক্তিতে গেলে তা ঠেকাতেই ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার—ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত তথ্য থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির প্রধান দুটি নৌপথ
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিকে মূলত একটি অভিন্ন জলপথ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। তখন এটিকে ‘ইরানি’ বা ‘ওমানি’ নৌপথ হিসেবে আলাদা করে দেখা হতো না। জাহাজগুলো প্রণালির মাঝামাঝি দিয়ে নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম অনুসরণ করে চলাচল করত।
কোন পথে জাহাজ চলবে, তা সাধারণত নির্ধারিত হতো কোন বন্দরে জাহাজ যাবে, ভাড়ার চুক্তির শর্ত এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তখন জাহাজ চলাচলের প্রধান নিয়ামক ছিল না।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর জলপথটি কার্যত দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত হয়েছে।
ইরান প্রণালির উত্তর দিকের রুটটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই পথটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে লারাক ও কেশম দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে এবং সরাসরি ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রভিত্তিক তেল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে রয়েছে দক্ষিণের ওমানি রুট। এটি ওমানের কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূল থেকে তুলনামূলক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র এই পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট দিয়েই চলাচল করছে।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের ধরন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কার প্রভাব কতটা রয়েছে, তার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।