
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চকে ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
সানাউল্লাহ বলেন, লংমার্চকে ইসলামাবাদের সীমানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে।
সানাউল্লাহ জানান, আলোচনার সময় সরকার খসড়া চুক্তিতে দুতিনবার সংশোধনী এনেছিল, কিন্তু সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের ভূমিকা নিয়ে মতপার্থক্য থেকেই যায়।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রাদেশিক সরকারকে অবশ্যই তাদের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার বিষয়টি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার বিষয়ে অস্বীকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে পিটিআই। দলটির প্রতিনিধিদের মতে, আলোচনার সময় মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে সরকার আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত উল্লেখ করে সানাউল্লাহ বলেন, পিটিআই এবং খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার যদি সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকে, তবে সরকার আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, ‘তারা যদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের ভূমিকা পালনে প্রস্তুত থাকে, তবে তারা আজ, আগামীকাল বা পরশু—যেকোনো দিনই আসতে পারে।’
তিনি আরও জানান, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের পর সরকার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করবে।
সানাউল্লাহ এ-ও জানান, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার চিকিৎসার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি বিষয়গুলোকে সন্ত্রাসবাদ দমনের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি যখন ইসলামাবাদের উদ্দেশে পিটিআইয়ের লং মার্চ শুরুর ঘোষণা দেন, তার পরপরই সানাউল্লাহর এমন মন্তব্যটি আসে।