আইসিসির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: কী বলছে ইইউ জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী দেশগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে- তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার সঙ্গে ‘দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করে’।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস আইসিসির প্রতি তাদের ‘অব্যাহত এবং অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করার জন্য ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫টি।
অন্যদিকে আইসিসি এ নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তটির বিচার করবে।’
প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো হলো আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি শৃঙ্খলার ভিত্তির ওপর একটি আক্রমণ। 
আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না। 
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বড় ধরনের আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো আইসিসি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে আদালতটির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তার জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে।
তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এসব প্রতিক্রিয়া এসেছে। শুক্রবার শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে প্রচেষ্টার জন্য সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে একটি ‘বিপথগামী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে ‘ধ্বংস’ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আইসিসির সাথে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’ 
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার আগে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড (ছাড়ের সময়) দিয়েছে, যার মানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এর কার্যক্রমের জন্য অর্থ প্রদান চালিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন উদ্বেগ মোকাবিলার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশগুলোকে সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে এই পদক্ষেপটি খোদ আদালতকেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং আর্থিকভাবে এর কাজ করার সক্ষমতা ধসিয়ে দিতে পারে। 
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, আইসিসি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা গ্লোবালিস্ট (বিশ্বায়নবাদী)। এরা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতের একটি তদন্তের কারণে তারা ক্ষুব্ধ, যা আদালত ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণেও তারা ক্ষুব্ধ। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোতে এমন কথা বলা হয়নি, এই পদক্ষেপগুলো তুলে নেওয়ার আগে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প আইসিসিকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে ধ্বংস করে দেব।’  মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিসিকে ব্যাংকিং বা সফটওয়্যারের মতো পণ্য বা পরিষেবা প্রদানে বাধা দেবে।
রুবিও বলেন, আইসিসি এবং এর সদস্য দেশগুলো মার্কিন উদ্বেগের সমাধান করবে এমন আশায় ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেরি করেছিল। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশগুলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে।