
দিনভর দুর্বল লাগা, ঘুম থেকে উঠেই নাক বন্ধ থাকা, ঘন ঘন হাঁচি বা দীর্ঘদিনের কাশি—এসবকে আমরা সাধারণত আবহাওয়ার পরিবর্তন, সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জির লক্ষণ বলে ধরে নিই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সমস্যা অনেক সময় লুকিয়ে থাকে আমাদের প্রতিদিন ব্যবহৃত বালিশেই।
তাদের মতে, পুরোনো বা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা বালিশে ধুলো, ছাঁচ ও নানা অ্যালার্জেন জমে থাকে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। হাঁপানি বা সাইনাসে ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন এমন বালিশ ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। গুরুতর হলে হাইপারসেনসিটিভিটি নিউমোনাইটিস বা পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মতো ফুসফুসের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে।
বালিশ কীভাবে ক্ষতি করে?
অপরিষ্কার বালিশে ধুলো-কণা, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান এবং ফাঙ্গাস জন্মায়। এগুলো শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ফোম বালিশে ছাঁচের উপস্থিতি হাইপারসেনসিটিভিটি নিউমোনাইটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা চিকিৎসা না হলে পালমোনারি ফাইব্রোসিস ও গুরুতর শ্বাসকষ্টে রূপ নিতে পারে।
কখন বুঝবেন বালিশ বদলাতে হবে?
ঘুম থেকে উঠে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, চোখে চুলকানি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে তা বালিশ পরিবর্তনের সংকেত হতে পারে। এছাড়া বালিশে দাগ, দুর্গন্ধ, ঢিলে হয়ে যাওয়া বা ভেতরের উপাদান দলা পাকিয়ে গেলে দ্রুত বদলে ফেলা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সাধারণভাবে প্রতি ১ থেকে ২ বছর অন্তর বালিশ পরিবর্তন করা ভালো, যাতে অ্যালার্জেন জমে না থাকে। তবে হাঁপানি, সাইনাস বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাস পরপর বালিশ বদলানো জরুরি।