সবচেয়ে কম ভোটে ১৫ এমপি যারা

বিশেষ প্রতিবেদন
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গড় ভোটের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন ১৫ জন। তারা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে ৪০ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ তুলনামূলক কম সংখ্যক মানুষের ‘ম্যান্ডেট’ নিয়ে তারা সংসদে যাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ওই আসনে মোট জমা পড়া ভোটের ৩৪.৫৬ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। আসনটিতে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪২৪ ভোট। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৬৯ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮। 
ময়মনসিংহ-৬ আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে মোট জমা পড়া ভোটের ৩৩.০৩  শতাংশ পেয়েছেন তিনি। এখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতার সুলতানা। ফুটবল প্রতীক নিয়ে তিনি ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ৫১ হাজার ৯৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলম ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯। 
মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান। তিনি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট। মোট জমা পড়া ভোটের ৩২.৩৮ শতাংশ পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। একই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবাহান রিকশা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট। আসনটিতে ভোট দিয়েছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৩ জন। 
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোট জমা পড়া ভোটের ৩৫.৮৭ শতাংশ পেয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৮৬৭। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের কাবির মিয়া ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০। বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৯টি। 
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৪। এখানে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২১টি। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। ভোটের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। এই হিসাবে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ২৬.৯৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।  
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। মোট জমা পড়া ভোটের ৩৮.৫০ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। 
নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। মোট দেওয়া ভোটের ৩৮.১২ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৮টি। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান জয়ী হন। তিনি পান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। মোট জমা পড়া ভোটের ৩৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে পান ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। 
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির সেলিম ভূঁইয়া পেয়েছেন পোস্টাল ভোটসহ ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট। এটি মোট জমা পড়া ভোটের ৩৮.২৫ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী তালা প্রতীক নিয়ে আবদুল মতিন পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৫ জন। 
কুড়িগ্রাম-১ আসনে ২৩১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। মোট জমা পড়া ভোটের ৩৯.৫৪ শতাংশ পেয়েছেন তিনি।  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট।
দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক তালা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জমা পড়া ভোটের ৩৪.৪৩ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট।
মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী। মোট জমা পড়া ভোটের ৩৬.২৬ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।  
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট; যা মোট জমা পড়া ভোটের প্রায় ৩৮ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ওবায়দুল্লাহ ফারুক পান ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৪৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। 
চাঁদপুর-৪ আসনে ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান। প্রদত্ত ভোটের ৩৫ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট এবং জামায়াতের বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৬৯২ ভোট।  
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট। মোট জমা পড়া ভোটের ৩৮.৫৪ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। এই আসনে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪। মোট ভোট জমা পড়ে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০টি। 
সূত্র: সমকাল