চার-ছক্কার ঝড় তুলেও তামিমের রেকর্ড ভাঙা হলো না তানজিদের

স্পোর্টস ডেস্ক
  ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৩


সেঞ্চুরি হাতছাড়ার চেয়েও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং ছিল বেশি উপভোগ্য। নজরকাড়া চার-ছক্কার ফুলঝুরি। সব শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। তবে মাঠ আর কন্ডিশন পরিবর্তন হতেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজ খেলেছেন আক্রমণাত্মক।
টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা তামিম যেন দ্রুতই আয়ত্ত করছেন—যখন যেমন প্রয়োজন তার সঙ্গে নিজেকে সেট করে ব্যাটিং একজন বুদ্ধিমান ব্যাটারের কাজ। তবে সেঞ্চুরির আগে একটু ধীরেসুস্থে চাইলে খেলতে পারতেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এখানে যেন একটু খেই হারালেন, থিতু হয়ে ফিরলেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগে।
প্রথম সেশনে ১ উইকেটে ১৩৪ রানে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির একটু আগেই ফেরেন তামিম। ৭১ বলে খেলেছেন ৮৩ রানের আক্রমণাত্মক এক ইনিংস। মেরেছেন ৪টি ছক্কা ও ৮টি চার। 
প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ওভারপ্রতি রান তুলেছে ৫.১৫ হারে। ২৬ ওভারে ১২৬—অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়েছেন তামিম ও সাদমান ইসলাম। ২৩তম ওভারে তামিমকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানকে দারুণ এক ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার ইসমত আলম।
১২৪ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেশনে সাদমানও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তার সঙ্গে অভিজ্ঞ মুমিনুল হক রান বাড়াচ্ছেন। এ প্রতিবেদন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৬৬ রান। সাদমান ৫৮ ও মুমিনুল ২২ রানে ব্যাটিং করছেন।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। 
লাল বলের খেলা হলেও ওপেনার সাদমান ও তামিম উইকেটে নেমে যেন টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডের আমেজ নিয়ে আসলেন। শুরু থেকেই আফগান পেস ও স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে চড়াও হোন।   
একপ্রান্তে সাদমান ইসলাম ঠাণ্ডা মাথায় সতর্কতার সঙ্গে উইকেট আঁকড়ে রাখেন, অন্যদিকে তামিম ব্যাট হাতে ছিলেন রীতিমতো অগ্নিরূপী। আফগান বোলারদের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে মাত্র ৪১ বলেই তুলে নেন বিস্ফোরক ফিফটি।
ওপেনিং জুটিতেই স্কোরবোর্ড ছুটতে থাকে ঝড়ের গতিতে। মাত্র ১০ ওভারের আগেই ফিফটি আর ১৮ ওভার ছোঁয়ার আগেই দলীয় ১০০ রান পার করে বাংলাদেশ।
তবে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম টেস্ট শতকের রেকর্ডটি আর তার গড়া হলো না তামিমের। বাইরের শর্ট বল সামান্য বাইরের দিকে সুইং করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তানজিদ তাতে ব্যাট ছোঁয়াতে যান, আলতো ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপরা ইসমাইল খিলের গ্লাভসে বল জমা পড়ে।
তামিমের সামনে সুযোগ ছিল বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরি রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার। ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে নিজের আইডলের ১৬ বছরের রেকর্ড এই দফায় ভাঙা হলো না তানজিদ তামিমের।