বিমানের জ্বালানির দাম বাড়লো, ভারতগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের কী প্রভাব পড়বে?

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮

উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে ভারতে আবারও বাড়ানো হয়েছে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম। ১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে এটিএফের দাম লিটারে প্রায় ১৬ রুপি বেড়ে ১২১ রুপি থেকে ১৩৭ রুপি হয়েছে। টানা তৃতীয় মাসে জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিমানভাড়ায় পড়বে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও দীপাবলিকে ঘিরে ভারতে বিমান ভ্রমণের চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানির বাড়তি খরচের সঙ্গে যাত্রীর চাহিদা ও আসনসংখ্যার বিষয়টিও ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জ্বালানির দাম বাড়লেই সব রুটে একই হারে বিমানভাড়া বাড়বে এমনটা নিশ্চিত নয়।
টানা তৃতীয় মাসে বাড়ল এটিএফের দাম
অক্টোবরে লিটারে প্রায় ১৬ রুপি বাড়ানোর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এটিএফের দাম লিটারে ৬ দশমিক ২৮ রুপি এবং আগস্টে ৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে জুলাইয়ে অবশ্য লিটারে ৫ রুপি দাম কমানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং রুপির বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে ভারতে এটিএফের দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রতি মাসের প্রথম দিনে নতুন করে এই দাম পর্যালোচনা করা হয়।
বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশ জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে অতিরিক্ত খরচের একটি অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনও কোনও বিমান সংস্থা আবার পুরো বাড়তি খরচ বা তার একটি অংশ নিজেদের বহন করতে পারে।
এটিএফের দাম বাড়লেও এর পুরো প্রভাব যাত্রীদের ভাড়ায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সিদ্ধান্তের ওপর। একই পথে একাধিক বিমান সংস্থার প্রতিযোগিতা থাকলে ভাড়া নির্ধারণে তার প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি কোনও নির্দিষ্ট পথে যাত্রীর চাহিদা, বিমানের আসনসংখ্যা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও ভাড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসবের সময়ে সাধারণত ভ্রমণের চাহিদা বাড়ে। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যদি যাত্রীর চাপও বাড়ে, তাহলে কিছু রুটে ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সর্বোচ্চ বিমানভাড়া নির্ধারণ করবে না ভারত সরকার
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, সরকার বিমানভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করবে না। তবে উৎসবের মৌসুমে বিমান সংস্থাগুলোকে ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে।
২২ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। তবে এটিএফের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে উৎসবের মৌসুমের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক হচ্ছে। উৎসবের সময়ে যারা ভ্রমণ করতে চান, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে বিমানভাড়া যেন যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য এর প্রভাব কতটা?
ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানযাত্রীদের ওপর পড়বে না। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী বা ভারত হয়ে অন্য দেশে যাওয়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিশেষ করে যেসব যাত্রায় ভারতীয় বিমান সংস্থা ব্যবহার করা হয় বা ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনও সংযোগ ফ্লাইট রয়েছে তাদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
উদাহরণ হিসাবে, ঢাকা থেকে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই বা ভারতের অন্য কোনও শহরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ভাড়ার মধ্যে সমন্বয় করলে টিকিটের দাম বাড়তে পারে। আবার বিমান সংস্থা যদি বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা বা একটি অংশ নিজেরাই বহন করে, তাহলে যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
তাই বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতগামী টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ভাড়া এবং যাত্রার তারিখ অনুযায়ী টিকিটের দাম যাচাই করা। বিশেষ করে দুর্গাপূজা, দীপাবলি বা অন্য ব্যস্ত সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগে ভাড়া তুলনা করে টিকিট কাটলে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।