এয়ারপোর্টে আইস নিয়োগ করবেন টাম্প?

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:১১

 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার এয়ারপোর্টগুলোতে আইস এজেন্টদের মোতায়েন করার হুমকি দিয়েছেন।অর্থ বিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনিক অচলাবস্থা চলছে।এ প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২১ মার্চ শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা দ্রুত অর্থায়ন চুক্তিতে সম্মত না হন, তাহলে তিনি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইস) কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে মোতায়েন করবেন। তার দাবি, এতে দেশের বিমানবন্দরগুলো আবার “স্বাধীন ও নিরাপদ” হয়ে উঠবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় উল্লেখ করেন, আইস কর্মকর্তারা এমনভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন যা আগে কখনও দেখা যায়নি। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব কর্মকর্তা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারী অভিবাসীদের গ্রেপ্তারেও জোর দেবেন, বিশেষ করে সোমালিয়া থেকে আগতদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তরের আংশিক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দেশটির কংগ্রেসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সিনেটে একাধিকবার বিল পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবগুলো যথেষ্ট নয় এবং তারা আইস-এর কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মিনেসোটায় সম্প্রতি ফেডারেল অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এই দাবিগুলো আরও জোরালো হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনসহ অভিবাসন প্রয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন সংস্থাগুলোর জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে রিপাবলিকানরা এসব উদ্যোগ আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ অনেক নিরাপত্তা কর্মী বেতন না পেয়ে কাজে অনুপস্থিত থাকছেন বা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ধনকুবের ইলন মাস্ক বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য কি না বা আইনি দিক থেকে বৈধ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, তারা পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের পূর্ণ অর্থায়নের জন্য ভোটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন আইনপ্রণেতারা বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের বেতন নিশ্চিত করতে চান এবং কারা তা বাধাগ্রস্ত করছেন। অর্থায়ন সংকট, অভিবাসন নীতি এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় একত্রে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।