
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশ না করা সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে বিবিসি এ ধরনের কোনো ডকুমেন্টস এখনও দেখেনি বলে জানিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে ‘এই মুহুর্তে’ একটি আলোচনা চলছে এবং যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে কথা বলছে তারা ‘খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি’ করতে চাইছে।
যদিও একদিন আগেই ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে, মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সাথে আলাপের সময় বলেছেন, ‘ইরান শুধু অস্থায়ী নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী।’
ওদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ছয় শতাংশ কমেছে। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। ইরান জানিয়েছে, শত্রু ভাবাপন্ন নয় - এমন জাহাজকে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল কতে দেবে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে তেহরান।
এদিকে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই কর্মকর্তার সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-এতে বলা হয়, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন যে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে কতটা মরিয়া, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে কতটুকু গুরুত্ব পেয়েছে বা তারা একে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানো ইসরায়েল এই প্রস্তাবে একমত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে এই শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর মধ্য দিয়ে এটিই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এবং আরও কয়েকটি দেশকে জড়িয়ে ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউস এখন তাদের তৎপরতা জোরালো করছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এই পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের কোনো অনুলিপি হাতে পায়নি। তবে স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা এর কিছু সাধারণ রূপরেখা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই প্রস্তাবে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।