রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণে বাতিল হতে পারে গ্রিনকার্ড!

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০১ মে ২০২৬, ১১:৪০

যেসব ইমিগ্রান্টের যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ, যার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসরায়েল নিয়ে কিছু পোস্ট করাও অন্তর্ভূক্ত, তাদের গ্রিনকার্ড বাতিল করা হতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসন এক নির্দেশনা জারি করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, যথেচ্ছ রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ, ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা অথবা ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের কারণে ইমিগ্রান্টদের গ্রিনকার্ড বাতিল করা হতে পারে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার অবমাননা ও আমেরিকান মতাদর্শ বিরোধী প্রচারণাও গ্রিনকার্ড পাওয়ার অযোগ্যত হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলা হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র অফিসারদের কাছে প্রেরিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ উপাদানে অফিসারাদের সম্ভাব্য আমেরিকান বিরোধী বা ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ সম্পর্কিত বিষয় পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক টাইমস আরও বলেছেন যে ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস ‘ইমিগ্রান্ট বেনিফিট রিকোয়েস্টস’ এর আওতায় এ ইমিগ্রেশন অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে গ্রিনকার্ডধারীদের অবস্থা হালনাগাদ করতে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘যারা আমেরিকাকে ঘৃণা করে এবং আমেরিকান মতাদর্শ বিরোধী প্রচারণা চালালা, তাদেরকে আমেরিকার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।’ পত্রিকাটির খবরে অফিসারদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকান মতাদর্শ বিরোধী প্রচারণা ও অনুরূপ প্রচারণা সমর্থন করা, বা ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাস, মতাদর্শ বা গোষ্ঠীগত সমর্থনের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের গ্রিনকার্ড দেওয়া উচিত নয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, কাউকে অযোগ্য করে তুলতে পারে এমন কাজের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানানো হয়েছে, এমন পোস্টার বহন করা, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসরায়েলের পতাকার উপর ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছবির সঙ্গে ‘স্টপ ইসরায়েলি টেরর ইন প্যালেস্টাইন’ জাতীয় পোস্ট করা। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রান্টদের বিষয়গুলোর অধিকতর পর্যালোচনার জন্য তাদের ঊর্ধ্বতন ও জেনারেল কাউন্সেলের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত নীতি বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘এসব নির্দেশনার মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। নির্দেশনাগুলো আমেরিকান প্রতিষ্ঠান, নাগরিকদের নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য।

নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও ফিলিস্তিন-পন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের ভিসা বাতিল করেছেন। এছাড়া গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসে জানানো হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত হিসেবে বহু দেশের পর্যটকদের কাছে পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস চাওয়া হতে পারে। গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দেন যে, কর্মী সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে আমেরিকানরা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কামনা করেছিল। ‘ট্রুথ সোস্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প তাদের ‘মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক’ বলে বর্ণনা করেন, এবং ‘আইস’কে ধন্যবাদ জানান।