
ব্রুকলিনের বেডফোর্ড-স্টাইভেসান্ট এলাকায় এক সশস্ত্র সংঘর্ষ ও পুলিশ অভিযান চলাকালে এনওয়াইপিডি-এর এক অভিজ্ঞ গোয়েন্দা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে পুলিশি পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়। ঘটনাটি নিয়ে ১৯ জুন যৌথ ব্রিফিং করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা এস টিস।
এনওয়াইপিড-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৫:৪৫ মিনিটে ৭৯তম প্রিসিঙ্কটের পুলিশ সদস্যরা ১৯০ কোসচিউসকো স্ট্রিট -এর একটি দুইতলা ব্রাউনস্টোন ভবনে সাতটি গুলির শব্দ শোনার ৯১১ কলের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর ভবনের ভেতর থেকে আবারও গুলির শব্দ শোনা যায়।
পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে তারা একজন পুরুষকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখতে পান। এরপর অতিরিক্ত বিশেষ ইউনিট-ইএসইউ, হোস্টেজ নিগোশেয়েশন টিম, টিএআরইউ, টিএআরইউ এবং এসআরজি -ঘটনাস্থলে এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং আশেপাশের ভবনগুলো দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খালি করা হয়।
ঘটনার সময় সন্দেহভাজনের স্ত্রী ও সন্তান নিরাপদে ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হন এবং পুলিশকে জানান যে অভিযুক্ত ব্যক্তির মানসিক রোগের ইতিহাস রয়েছে। তবে ভবনের উপরের তলায় থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতি আটকে পড়েন।
প্রায় সকাল সাড়ে আটটায় অভিযুক্ত ব্যক্তি জানালা দিয়ে ভারী জিনিসপত্র-মাইক্রোওয়েভ, ল্যাম্প, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী-নিচে পুলিশের অবস্থানস্থলে ছুঁড়ে মারতে থাকেন। ড্রোন ফুটেজে তাকে হাতে বন্দুকসহ দেখা যায় এবং তিনি ভেতর থেকেই গুলি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরে সকাল আটটা ৫২ মিনিটে ইএসইউ ইউনিট ভবনে প্রবেশ করলে সিঁড়ির উপরে তারা সশস্ত্র ব্যক্তির মুখোমুখি হন। একাধিকবার অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করে গুলি চালান। এতে ইউএসইউ -এর ১৫ বছরের অভিজ্ঞ ডিটেকটিভ ম্যাথি গেইল পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশের পাল্টা গুলিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আহত হন এবং পরে তাকে উডহাল হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাকে ৪৮ বছর বয়সী ল্যামিন সিমন্স হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
টনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে-একটি বেড়েটা পিস্তল (এক্সটেন্ডেড ম্যাগাজিনসহ) এবং একটি .৩৮০ ক্যালিবার জিমেনেজ আর্মস হ্যান্ডগান। পুরো ঘটনায় প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ ডিটেকটিভ ম্যাথিউ গেইলকে দ্রুত কিংস কাউন্টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বাম পায়ে টিবিয়াল ফ্র্যাকচার হয়েছে, তবে তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
মেয়র মামদানি হাসপাতালে গিয়ে আহত অফিসারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তার জন্য ঘণচউ সদস্যরা প্রতিদিন জীবন ঝুঁকিতে ফেলেন এবং এই ঘটনাও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
কমিশনার টিশ জানান, ঘটনাটি শুরু হয় মূলত ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে বিরোধ থেকে। তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজনের এনওয়াইপিডি-এর সঙ্গে পূর্বে কোনো নথিভুক্ত মানসিক স্বাস্থ্যজনিত (ইডিপি) ইতিহাস ছিল না।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পুরো অভিযানটি বডি-ক্যামেরা এবং ড্রোনে রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।