আইনি লড়াইয়ের নতুন মোড়, ইমিগ্র্যান্টদের ভাগ্য নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্টের ধারাবাহিক রায়

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৭ জুন ২০২৬, ১৩:০৮

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২৫ জুন বৃহস্পতিবার একই দিনে দুটি বড় ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত রায় দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি জয় দিয়েছে। ৬-৩ ভোটে আদালত হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষা (TPS) বাতিল করার অনুমতি দিয়েছে এবং সীমান্তে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমিত করার "মিটারিং" নীতি পুনরায় চালুর পথ খুলে দিয়েছে। এখনও ঝুলে আছে এই মেয়াদের সবচেয়ে বড় মামলা — জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা — যার রায় জুলাইয়ের শুরুতে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় নাগরিকের সাময়িক সুরক্ষা বাতিলের অনুমতি পেয়েছে প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই রায়কে "বিশাল জয়" বলে অভিহিত করেছেন, বলেছেন এটি প্রমাণ করে TPS কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ ছিল না। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা এটিকে "দুঃখজনক দিন" বলেছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই রায় এসেছে ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবরের পরপরই — যে ধরনের দুর্যোগকেই অতীতে TPS অনুমোদনের কারণ হিসেবে গণ্য করা হতো।
মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো মামলায় আদালত একটি নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করেছে। যা সীমান্তে দৈনিক অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করার নীতি আটকে রেখেছিল। বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন তার ভিন্নমতে লিখেছেন, এই মামলা আদৌ গ্রহণ করা উচিত হয়নি। কারণ নীতিটি ২০২১ সালেই প্রত্যাহার হয়ে গিয়েছিল। নীতি এখনও বাস্তবে প্রয়োগ হয়নি, তবে প্রশাসন এখন তা পুনরায় চালুর আইনি বাধা মুক্ত।
এখনও ঝুলে আছে আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলা। ট্রাম্প বনাম বারবারা মামলা — যেখানে প্রশ্ন উঠেছে অবৈধ বা সাময়িক অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অস্বীকার করা যায় কিনা। যা  ট্রাম্পের এই মেয়াদের সবচেয়ে আলোচিত মামলা। এপ্রিলের শুনানিতে বিচারপতিরা প্রশাসনের "Domisail" তত্ত্বের প্রতি সন্দিহান প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সলিসিটর জেনারেল সয়্যারকে বলেছেন, "এটা একই সংবিধান" — যখন সয়্যার দাবি করেন বিশ্ব বদলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে আগাম পরাজয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রায় প্রত্যাশিত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে।

৫ জুন রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল কোর্ট USCIS-এর আবেদন-প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ ও সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছে। এটি ছিল হাজারো আবেদনকারীর জন্য সাময়িক স্বস্তি।
USCIS এখনও ২০২২ সালের নরম নিয়ম অনুসরণ করছে (কেবল নগদ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক সেবা গণনা হয়), কিন্তু বিদেশে কনস্যুলেটে ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন কঠোর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খরচ মেটানোর সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতও জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়। যা এখনো একই অবস্থায় রয়েছে। ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নিয়ম বাতিল করে আরও কঠোর নিয়ম আনার একটি প্রস্তাব (NPRM) বিচারাধীন আছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে এবং নিশ্চিতভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে।
আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, অনেক পরিবার এখনও ভুল ধারণার বশে SNAP বা WIC-এর মতো বৈধ সুবিধা এড়িয়ে চলছে, যদিও এসব আইনত পাবলিক চার্জ নির্ধারণে গণনা হয় না। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, একের পর এক রায় এবং পরস্পরবিরোধী নিয়মের কারণে কোটি অভিবাসী পরিবার দিনের পর দিন অনিশ্চয়তায় বাস করছে। ACLU-র আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, "আমরা সবাই যারা এই দেশে জন্মেছি তারা আমেরিকান — কোনো রাজনীতিবিদ এটা ঠিক করতে পারে না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে প্রশাসন-সমর্থকরা এই রায়গুলোকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দরকারি পদক্ষেপ বলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের চলতি অধিবেশনের বাকি সপ্তাহগুলো নির্ধারণ করে দিতে পারে আগামী কয়েক বছরের জন্য মার্কিন অভিবাসন নীতির গতিপ্রকৃতি।