অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন

লাখো অভিবাসীকে ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাবে ট্রাম্প প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ জুলাই ২০২৬, ২১:২২

ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির আশ্রয়প্রার্থীদের আর ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হবে না। পরিবর্তে তাদের মামলা সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো হবে, যেখানে তারা বহিষ্কার (রিমুভাল) কার্যক্রমের মুখোমুখি হবেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঘোষিত এ অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি  মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়। এ নিয়মের ওপর আগামী ৬০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার অ্যাসাইলাম মামলা প্রভাবিত হতে পারে। একটি মামলায় একজন ব্যক্তি কিংবা একটি পরিবার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ঝুলে থাকা অ্যাসাইলাম আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার কমবে।
ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ব্যবস্থাকে বৈধ সুরক্ষার পরিবর্তে সময়ক্ষেপণ ও কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন নিয়ম প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নীতিবিশ্লেষকেরা বলছেন, এ পরিবর্তনের ফলে হাজারো আশ্রয়প্রার্থী আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়বেন এবং এতে মামলার জট কমবে না।
বর্তমানে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা সাধারণত ইউএসসিআইএসের মাধ্যমে অ্যাসাইলাম আবেদন করে আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের সুযোগ পান। অন্যদিকে সীমান্ত অতিক্রম করে বা অনিয়মিতভাবে দেশে প্রবেশকারীদের ইমিগ্রেশন কোর্টে নিজেদের দাবি উপস্থাপন করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার তুলনামূলকভাবে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং আবেদনকারীবান্ধব। কিন্তু ইমিগ্রেশন কোর্টে সরকারের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে ফৌজদারি মামলার মতো সরকারিভাবে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার নেই।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করে তাদের জায়গায় সামরিক আইনজীবী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমিগ্রেশন আদালতে অ্যাসাইলাম অনুমোদনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডরিস মেইসনার বলেন, একটি জটপূর্ণ সংস্থা থেকে আরও বেশি জটপূর্ণ ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা পাঠানো কোনো কার্যকর সমাধান নয়। তাঁর মতে, নতুন নীতির মূল প্রভাব হবে আরও বেশি সংখ্যক আবেদন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা তৈরি করা।
অভিবাসী অধিকার সংগঠন এফডব্লিইডি’র সভাপতি টড শুলটে বলেন, হাইতির নাগরিকসহ শত শত হাজার মানুষের অস্থায়ী সুরক্ষা বাতিলের পর এই সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে।