দেশের চাকরির বাজারে প্রবেশ করা প্রতি ১০০ শিক্ষিত তরুণের ৩৬ জনই বেকার

আইএমএফ
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৮

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, চাকরির বাজারে প্রবেশ করা প্রতি ১০০ জন তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জনই বেকার থাকছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের নিয়ে করা বিশ্লেষণে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ।
আইএমএফের ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়ায় যুব বেকারত্ব নিয়ে করা গবেষণায় সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো এশিয়াজুড়েই যুব বেকারত্বের হার বেশি। তবে সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব দেখা যাচ্ছে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে।
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কায়, প্রায় ৪৩ শতাংশ। এরপর ভারতে প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের হার এ তিন দেশের চেয়ে কম। 
ভারতে সামগ্রিক যুব বেকারত্বের হার ১৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব দেশেও সামগ্রিক যুব বেকারত্বের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ১৩ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ১২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে এ হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৮ শতাংশ।
আইএমএফ এ পরিস্থিতিকে ‘গ্র্যাজুয়েট গ্লাট’ (উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটের আধিক্য) হিসেবে উল্লেখ করেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, 'উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।'
সংস্থাটি আরও বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার এমন অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তিনির্ভর পদকে প্রতিস্থাপন করছে, যেগুলো এতদিন নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করত। এর মধ্যে জুনিয়র প্রকৌশলী, অ্যানিমেটর ও প্রশাসনিক কর্মীদের মতো পদ রয়েছে।