২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা, চট্টগ্রাম-২ ও ৪ স্থগিত

নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশ
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ দুই আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফল ঘোষণার সমাপণী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২৯৭টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে। ঘোষিত ফলাফলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে আখতার আহমেদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই চিঠিগুলোতে বলা হয়েছিল, আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব আসনের ফল ঘোষণা করা হবে না। তবে এরই মধ্যে শেরপুর-২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপাতত এই আসনের গেজেট না প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসি জানিয়েছিল, ভোটের হার পরে জানানো হবে। ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অধিকাংশ আসনে পোস্টালভোট যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান জানালে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণণা সম্পন্ন করেই এ তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলে। এবারের নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
এবারের নির্বাচনে অংশ নেয় ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন; যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি; যারা ধানের শীষ প্রতীকে লড়েন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করেন।মে
৩৯ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন বড়। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।