
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ভোটগ্রহণের পরদিন শুক্রবার নির্বাচন কমিশন এ তথ্য প্রকাশ করে। স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের ভোটার উপস্থিতি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের তুলনায় বেশি হলেও ২০০৮ সালের রেকর্ড অংশগ্রহণের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে—৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ভোট পড়ার রেকর্ড ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে; সেবার ভোটের হার ছিল মাত্র ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার
সাল — ভোট পড়ার হার (%)
১৯৭৩ ৫৫.৬২
১৯৭৯ ৫০.৯৪
১৯৮৬ ৬০.৩১
১৯৮৮ ৫৪.৯৩
১৯৯১ ৫৫.৪৫
১৯৯৬ (ফেব্রু.) ২৬.৫৪
১৯৯৬ (জুন) ৭৪.৯৬
২০০১ ৭৫.৫৯
২০০৮ ৮৭.১৩
২০১৪ ৪০.০৪
২০১৮ ৮০.২০
২০২৪ ৪২.০৪
২০২৬ ৫৯.৪৪
ভোটের হারের ওঠানামা
১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালে তা নেমে আসে ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশে। স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ভোটের হার দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ১৯৮৮ সালে তা ছিল ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
১৯৯১ সালে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর বর্জনের প্রেক্ষাপটে ভোটের হার নাটকীয়ভাবে নেমে যায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশে। একই বছরের জুনে পুনর্নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে পৌঁছে।
এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে ২০০১ সালের নির্বাচনেও, যেখানে ভোট পড়ে ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে—৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশে—উঠে যায়।
তবে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের কারণে ভোটের হার নেমে আসে ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দেওয়া হলেও সেই নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্ক ছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটের হার দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ০৪ শতাংশ।
সে তুলনায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আবারও কিছুটা বেড়েছে—৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে। এতে সাম্প্রতিক দুই নির্বাচনের তুলনায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও অতীতের সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে এখনো অনেক দূরেই রয়েছে।