মারধরের পর থানায় সামনে ফেলে গেল ঢাবি ছাত্র পাভেলকে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। এ সময় একটি মোবাইল ফোন, বাইকের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্তরা হলেন- জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরো বেশ কয়েকজন।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল বলেন, ‘আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে।
আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক—আমি তাদেরও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে বুয়েটের ভেতরে আমাকে মারধর করা হয়। পরে রিকশায় তুলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে নিয়ে আবার পেটানো হয়।
এরপর ভিসি চত্বরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং রাজু ভাস্কর্যের সামনেও কিছু সময় আটকে রেখে পেটানো হয়। পরে আমাকে থানায় ফেলে রেখে যায়। তখন গেটের সামনেও আমাকে মারধর করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে সবকিছু বোঝা যাবে।’
পাভেল বলেন, ‘আমার সারা শরীরে ব্যথা করছে, মুখ দিয়েও রক্ত বের হচ্ছে।
তারা বাইকের চাবি দিয়ে আমার মুখে ঘুষি মেরেছে। বেল্ট দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে মারধর করেছে। এমনকি মাটিতে ফেলে সারা শরীরে লাথিও দিয়েছে। আমি একটুও মুভ করতে পারছি না।’
রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাভেল বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত ক্লাস করি। আপনারা চাইলে আমার বিভাগের শিক্ষকরা—দর্শন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে—আপনারা কথা বলতে পারেন।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ জানান, ‘পাভেল জিয়া হলে থাকে, গত জুলাই আন্দোলনে সে হামলাকারী ছিল। ডিপার্টমেন্ট থেকেও সে বয়কটেড। এর আগে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, সে আর ক্যাম্পাসে আসবে না—এই শর্তে তার মা-বাবাকে নিয়ে গিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইদানীং সে ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেছে। পোলাপান দেখেছে, সে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টারিংও করেছে। আজ তাকে ধরার পর ফোন চেক করার জন্য বললে, সে জানায় ফোন দেবে না। উল্টে সে রিঅ্যাক্ট করেছে। তখন পোলাপান তাকে ধরে থানায় দিয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিব বলেন, ‘পাভেল ছাত্রলীগের সদস্য ছিল এবং ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সে হল ও ডিপার্টমেন্ট উভয় থেকে বয়কটেড। যদিও আমরা এখনো তার ছাত্রলীগের কোনো পোস্ট পাইনি, সবাই জানে যে সে ছাত্রলীগ করতো। কট্টরপন্থী ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। হল এবং ডিপার্টমেন্ট উভয় থেকেই বহিষ্কৃত।’
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযোগকারীরা কোনো সঠিক প্রমাণ দিতে পারেননি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল ৯টা) জানা যায়নি, তিনি ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন কি না।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোকন মিয়া বলেন, ‘একদল শিক্ষার্থী তাকে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে রেখে যায়। এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সকাল দশটার পর আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা আবার তাকে ছেড়ে দিতে পারি না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন বলেন, আমার সঙ্গে থানার কোনো কথা হয়নি। বিষয়টা জানি। কিন্তু পুলিশ কী করবে, বিষয়টি পুলিশ দেখবে। সে যদি মামলার আসামি হয় বা  অপরাধী হয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।