
প্রায় দুই দশক আগে এক-এগারোর সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর আবার আলোচনায় মানব পাচারের একটি মামলা। গত বছরের শেষ দিকে এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে অভিযুক্ত ১০৩ জনকে বাঁচাতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করেছিলেন আফিয়া ওভারসিসের কর্ণধার আলতাফ খান। বাদীর নারাজির পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি নতুনভাবে তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে সেই মামলায় পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন মাসুদ উদ্দিন। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থেকে সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
হঠাৎ আলোচনায় আসা এই মামলায় সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহীন, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার রুহুল আমীনসহ অভিযুক্ত ১০৩ জন। এ ছাড়া ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেডের মালিক এম এ রফিক এই মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে অনেকে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ ইস্যু সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন। তাদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই সময়ে আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় মাসুদ উদ্দিনকে দায়ী করছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেছেন, ‘তথাকথিত এক-এগারো সরকারের সময় এই আসামি (জেনারেল মাসুদ) ও অন্যরা মিলে ট্রুথ কমিশন গঠন করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করতেন। বিশেষ করে মাইনাস টু ফর্মুলার নামে জিয়া পরিবারকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন তারা।’ তবে পল্টন থানায় দায়েরের করা মামলার বাদী আলতাফ খান গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, ‘১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির কার্যক্রম জিম্মি করে রেখেছিল। তারা সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। প্রথমে পল্টন থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। তবে প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত বেশিদূর এগোয়নি। এরপর সিআইডি মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর প্রভাবে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বাধ্য হয় সিআইডি। এরপর নারাজি দেই। তখন মামলাটি ডিবিতে যায়। ডিবি থেকেও প্রথমে একজন তদন্ত কর্মকর্তার বদলি করানো হয়।’
আলতাফ খান আরও বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি। অভিযুক্তদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। জনশক্তি রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া জরুরি। সিঙ্গাপুরে জনশক্তি পাঠাতে সাতজনের একই ধরনের চক্র আছে। ই-রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি চালু করা উচিত।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীকে ফোন করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
যে মামলায় এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটির এজাহারে বলা হয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাঁর ছেলেকে সিন্ডিকেট সদস্য করেন। ১ নম্বর অভিযুক্ত সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ তাঁর স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ‘আমি প্রবাসী’ নামক অ্যাপ চালুর অনুমোদন দিয়ে চক্রকে সহযোগিতা করেন। ২০২২ সালের ১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ার পর মামলার বাদী আলতাফ হোসেন তাঁর লাইসেন্সের মাধ্যমে চাহিদাপত্র গ্রহণ করেন। যথাযথ নিয়মে কাজ শুরুর জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে মন্ত্রী ও সচিব জানান, তাদের নির্ধারিত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তারা নিজেদের আজ্ঞাবহ ব্যক্তিসহ (এজাহারে ৩ থেকে ২৬ নম্বর বিবাদী) তাদের সিন্ডিকেটভুক্ত ১০০ লাইসেন্সের মাধ্যমে কাজ করতে বলেন। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রত্যেকেই মন্ত্রী-সচিবের কথামতো প্রতি শ্রমিকের ভিসা প্রসেসিং বাবদ দেড় লাখ টাকা দিতে বলেন। এর পর তাদের জানানো হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানোর জন্য ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নেওয়ার কথা। বিষয়টি সচিবকে অবহিত করলে তিনি বাদীকে অফিসে ডেকে নিয়ে বলেন, শ্রমিকপ্রতি দেড় লাখ টাকা করে না দিলে বাদী এই মার্কেটে ব্যবসা করতে পারবেন না। মন্ত্রী-সচিবসহ অভিযুক্তরা তাদের নির্ধারিত ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে যে কারও সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। বাদী সে অনুযায়ী কাজ শুরু করলে ৩ থেকে ২৬ নম্বর অভিযুক্তরা বিভিন্ন খাত দেখিয়ে টাকা চাওয়া শুরু করেন। জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা দিলে তারা শ্রমিকদের পাসপোর্ট-ভিসা বুঝিয়ে দেবেন বলেন জানান। শ্রমিকের চাপ সহ্য করতে না পেরে বাদী তাদের ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ মে পর্যন্ত মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা দেন। তাদের এমন আচরণে বাদীর আরও প্রায় ২০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। তাদের আচরণ সহ্য করতে না পেরে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রুল ইস্যু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বাদীকে আর ব্যবসা করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। জীবনের ভয়ে বাদী রিট প্রত্যাহার করেন। বাদীর অভিযোগ, অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আরও অন্তত ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে এই চক্র।
অভিযুক্ত আরও যারা
পল্টন থানায় করা মামলায় অভিযুক্ত ১০৩ জনের মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ছাড়াও আছেন সাবেক এমপি ও আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের মালিক বেনজীর আহমেদ, স্নিগ্ধা ইন্টারন্যাশালের কর্ণধার নিজাম হাজারী, ইম্পেরিয়াল রিসোর্স লিমিটেডের মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনালের রফিকুল ইসলাম, জে জি আলফালা ম্যানেজমেন্টের মোহাম্মদ সোহেল রানা, অপরাজিতা ওভারসিজের আরিফুর রহমান, ট্রান্স এশিয়া ইন্টেগ্রেডের জামাল আবু জাহেদ, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেডের এস এম রফিক, কিউ কে কুইকের রবিউল ইসলাম, নাতাশা ওভারসিজের নাজিবুর রহমান, আমিন ট্যুরসের রুহুল আমিন, জেএমজি ট্রেডিংয়ের গোলাম মওলা, আল-ফারার জাকির আহমেদ ভূঁইয়া, ম্যান ইন পাওয়ার করপোরেশনের মোহাম্মদ মাহবুব আলম, মদিনা ওভারসিজের নাসির উদ্দিন মজুমদার, আল খামিস ইন্টারন্যাশনালের রেজিয়া বেগম, স্ট্যানফোর্ডের উত্তম কুমার রায়, সুলতান ওভারসিজের আলতাব হোসেন, জান্নাত ওভারসিজের লিমা বেগম, দ্য সুপার স্ট্যান্ড লিমিটেডের শাহিন কবির, সৈয়দ গোলাম সরোয়ার, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনালের আসরাফ উদ্দিন, মেরিট অ্যান্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, ইউনিক ইস্টার্নের মোহাম্মদ নূর আলী, মৃধা ইন্টারন্যাশনালের কাউছার মৃধা, প্রান্তিক ট্রাভেলসের গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
অন্য মামলার চিত্র
পুলিশ বলছে, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেনীতে ছয়টি ও ঢাকায় পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনীতে তিনটি মামলা বিচারাধীন। পলাতক থাকায় সেখানে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) অভিযোগ তদন্ত করছে। গতকাল সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে বনানী থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করছেন তারা। ওই মামলায় আসামি আটজন। অভিযুক্তদের তালিকায় আছেন– মাসুদ উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী জেসমিন মাসুদ ও মেয়ে তাসনিয়া মাসুদ। তাসনিয়া ওয়ান প্লাস ওভারসিজ ও ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক। এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন– ফাইভ এমের পরিচালক সালাউদ্দিন মোরশেদ ভূঁইয়া, নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথী, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের রুহুল আমিন স্বপন ও স্নিগ্ধা ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার নিজাম উদ্দিন হাজারী। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালসহ তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ৩৭টি হিসাব নম্বরে ৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৬ হাজার ১৯০ টাকা লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে এসব হিসাব নম্বরে জমা আছে পাঁচ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এই অর্থ ফ্রিজ করা হয়েছে। সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়ার জনশক্তি রপ্তানি চক্রে আছেন ১০০ এজেন্সি মালিক। এখন পর্যন্ত মানিলন্ডারিং আইনে দায়ের করা তিনটি মামলায় সিআইডি ৫৪ জনকে আসামি করেছে। চক্রের বাকি ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মাসুদ উদ্দিনের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯ হাজার ৩৭০ কর্মী বিদেশে গেছেন।
প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন?
পাঁচ দিনের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হলেও আরও কিছু বিষয়ে তাঁর কাছে বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। এক-এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে তাঁর ক্ষমতার ধারাবাহিকতার নেপথ্যে কী, কারা তাঁর সঙ্গে ছিল– এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবি সূত্র বলছে, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিগত সরকারগুলোর সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানারকম অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাড়ি কিনেছেন কিনা– তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মানব পাচার মামলার অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদেশে লোক পাঠাতে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে বেশি টাকা নিয়েছেন আসামিরা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটিয়ে তাদের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও সিআইডি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ২০১৫ সালে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয় মালয়েশিয়া। এসব এজেন্সি এক ধরনের সিন্ডিকেট বা চক্র নামে পরিচিতি পায়। অন্তত ছয় হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বন্ধ হয়েছিল শ্রমবাজার।২০২১ সালে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর মালয়েশিয়া সরকার প্রথমে ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয়। পরে এজেন্সির সংখ্যা ১০০-এ দাঁড়ায়।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো অনেক এজেন্সির বিরুদ্ধেই সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ আদায়, বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ রকম এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ২৫টি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে সিআইডি। এসব মামলায় ১০০ এজেন্সির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুদকের মামলায় শুনানি ৯ এপ্রিল
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি আগামী ৯ এপ্রিল। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন ও অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। রিক্রুট করা শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারদলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেছেন।