যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কমেছে ১১ শতাংশ 

বাংলাদেশীদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানিয়েছে আমেরিকান দূতাবাস
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:০২

গতবছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশিদের ভিসা প্রদানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ভিসা প্রদান পূর্ববর্তী বছরগুলোর চেয়ে ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে বহু দেশের ওপর পূর্ণ ভ্রমণ নিষোধাজ্ঞা, ভিসা বন্ড চালু, ভিসা ইন্টারভিউ গ্রহণ বন্ধ রাখা, এবং ভিসা প্রদানের ওপর কঠোর শর্ত প্রয়োগ, যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছিল না।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে ভারত ও চীনের ৮৪ হাজার ভিসাপ্রার্থীর ভিসা প্রদান করা হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই দুটি দেশ থেকে ছাত্র ও এইচ-১/বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগমণে আগ্রহীর সংখ্যা হ্রাস। মূলত এইচ-১/বি ভিসাপ্রার্থীদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপ করার কারণে এই ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অনেক দেশে তাদের কনস্যুলার অফিসে কর্মী সংখ্যা ব্যাপক হ্রাস করার কারণেও ভিসা ইন্টারভিউ গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে যুদ্ধের বিভিন্নমুখী প্রভাবের কারণে যে জিওপলিটিক্যাল উত্তেজনা ও সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হুমকি সৃষ্টি হওয়ায় গত ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী এক সতর্কতা জারি করেছে, যাতে যারা এমনকি জরুরী কারণেও এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাবেন তাদেরকে সতর্ক থাকতে আহবান জানিয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। এর ফলে বহু বিমান সংস্থাকে তাদের আকাশপথ পরিবর্তন করে ঘোরাপথে গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে ৫০টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড কর্মসূচি কার্যকর হতে যাচ্ছে। কোনো ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যাতে তাদের ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান না করেন সেজন্য চালু করা হচ্ছে এই ভিসা বন্ড।
ভিসার শর্ত লংঘন না করা সাপেক্ষে ভ্রমণ ভিসা, অর্থ্যাৎ বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে এই বণ্ডের পরিমাণ ফেরতযোগ্য ৫ হাজার ডলার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। এই নীতি প্রথমে ৩৮টি দেশের ওপর প্রযোজ্য ছিল, পরে আরো ১২টি দেশ যোগ করা হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হারও অনেক হ্রাস পেয়েছে। অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণেই এ চিত্র পালটে গেছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসী চলে যাওয়ার হার ২০২৫ সালে অধিক ছিল।
অভিবাসী বহিস্কারে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা
অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে নতুন প্রণোদনামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এ কর্মসূচির কথা জানায় দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, ভারত, চীন ও কলম্বিয়ার অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরতে ২ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দেশে ফিরে গেলে বিমানের টিকিটের টাকাও দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। এ কর্মসূচির প্রচারে নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে তিনটি ছবি প্রচার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
ভারত, চীন ও কলম্বিয়াকে নিয়ে বানানো এসব প্রচারপত্রে দেশগুলোর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে এসব দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিএইচএস বলেছে, ‘সিবিপি হোম (অ্যাপ) ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে গ্রহণ করুন বিনামূল্যের বিমান টিকিট, সঙ্গে নিন ২ হাজার ৬০০ ডলারের প্রণোদনা।’ -রয়টার্স
স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চার ধরনের প্রণোদনার কথা বলেছে ডিএইচএস। এর মধ্যে রয়েছে-১. অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নেই, এমন অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চাইলে তাদের আটক করা বা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হবে; ২. যেসব অধৈব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন, তাদের দেশ না ছাড়ার কারণে আরোপিত জরিমানা মওকুফ করা হবে। চাইলে তাদের দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থাও করা হবে; ৩. অভিবাসীদের সাধারণ যাত্রীর মতো নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। তাদের গ্রেপ্তার, আটক বা শারীরিক হয়রানি করা হবে না; ৪. যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশের পরেও যদি কেউ তা অমান্য করে জরিমানার মুখে পড়েন, স্বেচ্ছায় ফেরার ক্ষেত্রে সেই জরিমানাও মওকুফ হবে।

বাংলাদেশীদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানিয়েছে আমেরিকান দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা ব্যবহারের হার বেশির কারণে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে দেশটি। সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।বার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো অভিবাসীরা যাতে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে না দাঁড়ান তা নিশ্চিত করা।
যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা ব্যবহারের হার বেশি, সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ডিপার্টমেন্ট। এ স্থগিতাদেশের ফলে আমাদের যাচাই- বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার সময় মিলবে, যাতে সেগুলো আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। এ স্থগিতাদেশ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যার মধ্যে পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত।