‘জুবায়ের-মুসাদ্দিককে থানার গেট থেকে ওসি রুম পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়’

সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০০

ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে রাজধানীর শাহবাগ থানা থেকে ওসির রুম পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন শাহবাগ থানায় ডাকসুর এবি জুবায়ের মুসাদ্দিকসহ আরও কয়েকজন গিয়েছিল, তাদেরকে থানার গেট থেকে একদম ওসির রুম পর্যন্ত মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়।’ 
থানার মধ্যে যদি একজন নাগরিকের আইনের অধিকার না থাকে, তাহলে বাংলাদেশের আইন কোথায়, বিচার কোথায়- এমন প্রশ্নও রাখেন সাদিক কায়েম।
তিনি আরও বলেন, ‘যে ছেলে (আবদুল্লাহ আল মাহমুদ) তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে গেছে, তার জিডি নেওয়া হয়নি; বরং তাকে থানার মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। সেই দুপুর থেকে একদম সাড়ে চারটা পর্যন্ত, ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তাকে থানায় রাখা হয়েছে। প্রথমে সে শাহবাগ থানায় ছিল, সেখান থেকে তাকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধানমন্ডি থানায় আমরা যাওয়ার পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি -আপনারা কেন তাকে আটকে রেখেছেন? তার বিরুদ্ধে কি কোনো ফৌজদারি অপরাধ আছে? কিসের ভিত্তিতে, সে তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য -একটি সম্পূর্ণ ফেক স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে, যাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে -আপনারা তাকে থানায় রেখেছেন? তখন তারা আমাদেরকে বলেছে, এটা উপরের নির্দেশ।’
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ‘আহত এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে আছে। প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে তাদের শরীরে অনেক বেশি ব্যথা এবং জ্বর রয়েছে। সুস্থ হতে তাদের আরও কিছু সময় লাগবে।’
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়। এ ঘটনায় ছড়ানো নিয়ে স্ক্রিনশটটিকে ভুয়া দাবি করে শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এরপর ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ থানায় গেলে তাদের ওপর হামলা ঘটনা ঘটে।