ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না

নাহিদ ইসলাম
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:২৩


বাংলাদেশে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। 
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না, ভারতেরও না, আমেরিকারও না।’
তিনি বাংলাদেশের সব আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কখনো তার ত্যাগের যথাযথ মূল্য পায়নি। জুলাইয়ে আমরা অপেক্ষা করতাম, কখন জগন্নাথের মিছিল আসবে।
জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গৌরবের। আমরা জুলাইয়ের সব শহীদ এবং যাদের সামান্য স্যাক্রিফাইসও রয়েছে, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের বড় অবদান ছিল উল্লে­খ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় দেশ গড়ার কাজে অংশ নিয়েছে এবং তার ফলও পেয়েছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি। 
নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের সব আন্দোলনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে সুনজর দিতে। ঢাকার মধ্যে অবস্থান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হন। রাজধানীর মধ্যে আরেকটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারলে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বড় অবদান রাখতে পারবে।
আলোচনা সভায় নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন, জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল  হক, প্রক্টর ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জবির একমাত্র শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা, জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধযোদ্ধা মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।