গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে জ্বলছে না চুলা, রিফুয়েলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:২৮


কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসা-বাড়ির চুলায় গ্যাস থাকছে না। এতে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় সিএনজিচালিত গাড়িগুলোতে গ্যাস দিতে পারছে না নগরীর রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো। এ কারণে নগরীতে গণপরিবহণ সংকট দেখা দিয়েছে। যেসব গাড়ি চলছে সেগুলোও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত চালকের সহকারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন যাত্রীরা।
নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা কোহিনুর আক্তার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকছে না। এ কারণে লাকড়ির চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। তবে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রামে। কারণ চট্টগ্রামের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ক্যাপটিভ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। চাপ কমে গেলে উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। আর গ্যাস-সংকট দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রামে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে।
নগরীর বেশ কয়েকটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় গ্যাস দিতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে স্টেশনগুলোর সামনে শত শত সিএনজিচালিত গাড়ি অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই গ্যাস সংকটের কারণে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। গ্যাস নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় এর খড়গ যাত্রীদের ওপর গিয়ে পড়ছে।
নগরীর কদমতলী এলাকায় সিএনজি অটোরিকশাচালক আবদুল হালিম বলেন, গাড়ি নিয়ে বের হলে গ্যাস নিতেই ৫-৬ ঘণ্টা সময় চলে যায়। কোম্পানির ইনকাম কখন তুলব? এ কারণে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া চাইলে অনেকে বুঝে, কেউ আবার অযথা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে যান।
কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানায়, চট্টগ্রামে মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ারের গ্রাহক ২০৪ এবং শিল্পগ্রাহক ৯৬২। বাকি গ্রাহক বিদ্যুৎ, সার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে।