নাশকতাকারীরা ঢাকার দুই অঞ্চলকে টার্গেট করছে, পেছনে রয়েছে যে কারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১০

রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে টার্গেট করে নাশকতা চালানোর কৌশল নিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা—এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, রাজধানীর প্রবেশমুখ ও প্রান্তিক এলাকা হওয়া এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় নাশকতার জন্য অঞ্চল দুটিকে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নাশকতার পর দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যাওয়া কিংবা নগরীর ভেতরের অলিগলিতে গা-ঢাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এলাকার তুলনায় রাজধানীর প্রান্তিক এসব এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কিছুটা কম থাকার সুযোগও নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। ঝটিকা মিছিল থেকে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা বাসে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য এসব এলাকাকে তারা সুবিধাজনক মনে করছে।
রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের টার্গেট এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা এবং মিরপুরের শেষ অংশ। এসব এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি। অর্থাৎ, দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাচ্ছে তারা। প্রথমে ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে মহড়া, পরে বাসে আগুন এবং বড় ধরনের নাশকতার অংশ হিসেবে রোববার রাতে কমলাপুরে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে, নাশকতার টার্গেট হিসেবে মেট্রোরেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও এসেছে। এ কারণে সারা দেশের কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর এরই মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। তালিকা তৈরি করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে তদারকির দায়িত্ব।’
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী অর্থ জোগান ও ইন্ধন দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং অর্থ পাঠাচ্ছেন। তাদের নির্দেশেই দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থ জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের তথ্য পেয়েছে। অর্থের জোগানদাতা এবং ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীতে গণপরিবহণে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ ও নাশকতার মূল উদ্দেশ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ-এমন চিত্র ফুটিয়ে তোলা।’
ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম সীমানাকে টার্গেট করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকাগুলো ঢাকার প্রবেশদ্বার বা প্রান্তিক হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করে দ্রুত বের হয়ে যেতে বা পালিয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় ঘনবসতি এবং নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস বেশি; যা অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসাবে ব্যবহারের সুবিধা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিরপুর বা পল্লবীর বাসে মাত্রাতিরিক্ত গাদাগাদি বা ভিড় থাকে, যা রাজধানীতে চলাচলকারী অন্য বাসের তুলনায় বেশি। গণপরিবহণের এই অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই নাশকতামূলক কাজ করে সটকে পড়তে পারে-সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।’
নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীতে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন), ডিএমপি, ডিবি ও সিটিটিসি একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের সব বিভাগ ও জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশমুখ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি ও নজরদারি।