রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মৌলভীবাজারের মুহিবুর

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৩


বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন ছিল মুহিবুর রহমানের। তিনি চেয়েছিলেন নিজের জীবন বদলাতে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। কিন্তু মাঝপথে থেমে গেল তার স্বপ্ন।
দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেখানে বিভিন্ন বাংকারে খাবার রান্নার কাজ করছিলেন মুহিবুর। কিন্তু যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় তার প্রাণ, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত হন এই তরুণ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তার মৃত্যু হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার (২০ এপ্রিল)। মুহিবুর সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়ার ছেলে।
মুহিবুর রহমানের মৃত্যুর খবরটি প্রথমে রাশিয়া থেকে তার এক সহকর্মী পরিবারকে জানান। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই মুহিবুর উচ্চশিক্ষার আশায় কয়েক বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়ালেখা করেন। এরপর দেশে এসে এক মাস থেকে আবার রাশিয়া চলে যান। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যদের জানান তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর রান্নার কাজ করেন। সর্বশেষ গত বছর দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়া চলে যান।
তিনি বলেন, ‘বছর দুই আগে দালালরা ভাইকে প্রলোভন দেখায় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে। ভাই পরিবারকে না জানিয়ে হয়তো দালালদের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে অংশ নেন। যেহেতু তিনি আমাদের বলেছেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে খাবার রান্না করে খাওয়ান।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত সপ্তাহে একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী মেহেদি হাসান প্রথমে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছান।’
সোমবার রাতে আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, ‘আমরা মুহিবুরের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সে রাশিয়ায় মারা গেছে। সে রাশিয়ার হয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।’