
৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাবে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘ময়নার চর’। ছবিটিতে ময়না চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুস্মি রহমান।
চেনা গণ্ডির বাইরে আমি কাজ করতে পারি না। এই ছবিগুলোর নির্মাতারা আমাকে চেনেন, আমিও তাঁদের ভালো করে চিনি। মানে পরিবারের সদস্যদের মতোই
‘ময়নার চর’-এর ময়না কেমন?
গ্রামের সাদামাটা এক মেয়ের চরিত্র। অনেক টানাপোড়েন আছে তার জীবনে। প্রতিবাদী ও সংগ্রামী মেয়ে হওয়াতে নানা ঝামেলায় পড়তে হয় তাকে। একটা সময় মারাও যায় মেয়েটি।
শুটিং হয়েছে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডারে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
ঢাকা থেকে যেতে আট ঘণ্টা লেগেছিল।
আমরা যেখানে থাকতাম সেখান থেকে ট্রলারে করে শুটিং স্পটে যেতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত। প্রতিদিন যাওয়া আসা করতাম আমরা। সবচেয়ে ভয়ানক কথা, শুটিং স্পটে কোনো টয়লেট ছিল না। বুঝতেই পারছেন, মেয়েদের কী পরিমান ঝামেলা হতো।
আমরা তো পানিই খেতাম না ঠিক মতো। তবে হ্যাঁ, সেখানকার মানুষগুলো খুব ভালো। গ্রামবাসী আমাদের আপন করে নিয়েছিল। যেচে এসে কথা বলত। কোনো ঝামেলায় পড়লে নিমিষে সলভড করে দিত।
শুটিংয়ের এমন কোনো ঘটনা আছে যেটা সারা জীবন মনে থাকবে?
আছে তো! গত বছর আমরা ঠিক এই সময়ে শুটিং করেছিলাম। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়েছিল। এরই মধ্যে ছবির শেষ দৃশ্যের শুটিং। পানিতে আমি ভেসে থাকা লাশ। তো পরিচালকের নির্দেশনা মেনে পানিতে নামলাম। কিন্তু পানি এত ঠাণ্ডা! কখন যে জ্ঞান হারালাম বুঝতেই পারলাম না। পরিচালক তো শট নিচ্ছেন। একটা সময় ‘ওকে’ বলার পরও যখন আমি পানি থেকে উঠছি না তখন তারা বুঝলেন সামথিং ইজ রং। দ্রুত আমাকে তুলে রেস্ট হাউজে নিলেন। প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পরে আমার জ্ঞান ফেরে। পরদিন স্পটে গেলে দেখি ইউনিট থেকে শুরু করে আশপাশের শুটিং দেখতে আসা মানুষ—সবাই বলছেন, ‘ম্যাডাম, আপনাকে আমি গতকাল কোলে নিয়েছিলাম’! কী একটা অবস্থা! আমি অবশ্য সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছি।
লেডি অ্যাকশন ঘরানার একটা ছবি হাতে নিয়েছিলেন। সেটার কী অবস্থা?
কোনো অবস্থা নেই। আমি চুক্তিবদ্ধ হয়েছি আরো আগে। পরিচালক অন্যান্য কাজও এগিয়ে রেখেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রযোজক এখনই শুটিংয়ে নামতে চান না। আমিও অপেক্ষায় আছি। মনে হয় নির্বাচনের পর ছবিটির শুটিং শুরু হবে।
মাঝখানে দুই-তিনটা নাটকে দেখা গেছে আপনাকে...
হ্যাঁ। তবে এখন আর করছি না। নিয়মিত প্রস্তাব পাচ্ছি, কিন্তু আমি চলচ্চিত্রে সময় দিতে চাই। বলতে পারেন আগের ধারণায় আছি, তার পরও আমার মনে হয় চলচ্চিত্রের মানুষ চলচ্চিত্রেই থাকা ভালো। নাটক করলে দর্শক আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
পনের বছরের ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্র তো মাত্র তিনটি। সংখ্যা এত কম কেন?
আমি কিন্তু প্রথমে বিজ্ঞাপন করতাম। গ্রামীণ ফোনের শুভেচ্ছাদূতও ছিলাম। চলচ্চিত্রে পা রেখেছি ২০১৮ সালে ‘আসমানী’ ছবি দিয়ে। এরপর গত বছর মুক্তি পেল ‘দায়মুক্তি’। এ বছর আসছে ‘ময়নার চর’। আসলে চেনা গণ্ডির বাইরে আমি কাজ করতে পারি না। এই ছবিগুলোর নির্মাতারা আমাকে চেনেন, আমিও তাদের ভালো করে চিনি। মানে পরিবারের সদস্যদের মতোই। লেডি অ্যাকশন ঘরানার যে ছবিটা হাতে নিয়েছি সেটার পরিচালকও আমার পরিচিত। তা ছাড়া আমার একটু নাক উঁচু স্বভাব। অন্যদের মতো চেয়ে চেয়ে কাজ নিতে পারি না। আমার দ্বারা সেটা হবেও না।
সূত্র: কালের কণ্ঠ