যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহ আসছে

তুষারঝড়ে লণ্ডভণ্ড, বিভিন্ন রাজ্যে মৃত্যু ৬২
ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৭


২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আঘাত হানা ভয়াবহ শীতকালীন ঝড় এবং এর পরবর্তী মেরু শীতল বাতাসে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশজুড়ে নতুন করে আরও অনেক মৃত্যুর খবর যুক্ত হওয়ায় ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬২ জন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর অনেকগুলো এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত হিসাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া বিভাগ আরও একটি সম্ভাব্য ঝড়ের আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে।নতুন সতর্কতা অনুযায়ী জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার ও রবিবার আরও একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আলাবামা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ম্যারিল্যান্ড ও আলাস্কায়।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মেইন ও মিসিসিপির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমাঙ্কের অনেক নিচ দিয়ে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত চার দিন ধরে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়ক ও মহাসড়ক কিছুটা যান চলাচলের উপযোগী করা হলেও আবাসিক এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো বরফে ঢাকা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত ৬০ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে এমন ভয়াবহ শীতের প্রকোপ দেখা যায়নি। টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যেও এর আগে এমন পরিস্থিতির নজির নেই।
আগামী তুষারঝড়ের প্রভাবে ২২ কোটিরও বেশি আমেরিকান নাগরিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি তুষারপাতের ক্ষতি সামাল দেওয়ার আগেই আরেকটি আঘাত আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উল্লেখ্য, মিসিসিপিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো ৮ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়কে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত বরফ জমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গাছের ডালে জমে থাকা বরফ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
স্টেট প্রশাসনের তথ্যমতে, গত তিন দিনে ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, মেইন, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা জায়গায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি।
নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার : মেয়র
অপরদিকে সিটি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা এবং তীব্র তুষারঝড় নিউইয়র্ক সিটিকে গ্রাস করার পর অন্তত ১০ জন নিউইয়র্কবাসীকে বাইরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ঠান্ডা প্রাণঘাতী, হলেও আমাদেরকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য প্রাণঘাতী আবহাওয়ার সময় নিউইয়র্কবাসীদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি সম্পদকে কাজে লাগাচ্ছি। তিনি শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি গৃহহীন মানুষকে দ্রুত ভর্তি করতে নিয়মকানুন শিথিল এবং হাসপাতালগুলোকে রাতারাতি রোগী ছাড়ার পরিমাণ সীমিত করতে অনুরোধ করেছেন।
সিটি প্রশাসনের সমালোচনা করছেন নগরবাসীর
এদিকে প্রচন্ড ঠান্ডায় নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি তুষারপাতের পর সিটির রাস্তাঘাট পর্যাপ্ত পরিষ্কার না করায় সিটি প্রশাসনের সমালোচনা করছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানীর যথাযথ উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা না করার জন্য মেয়রকেই দায়ী করছেন নগরবাসী। বিক্ষুব্ধরা বলছেন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে না নিতেই ভয়াবহ তুষারপাতের আগাম খবরের পর মেয়র মামদানী যথাযথ উদ্যোগ না নেয়ায় তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন।
রাজ্যগুলোর ১০ কোটির বেশি মানুষ তুষার-ঝড়ে আক্রান্ত হয়ে কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রোববার ভোরে ঝড়টি প্রথমে টেনেসি ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানে। এ ঝড়ে অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি আর বোস্টনের বিমানবন্দরের ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাস, টেনেসি এলাকায় পাঁচ লাখের বেশি বাড়ি-ব্যবসায়, প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।