বিয়ের কথা শুনেই লজ্জায় লাল জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি চক্রবর্তী

বিনোদন ডেস্ক
  ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০

এবার দুর্গাপূজায় আসছে নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। নতুন সিনেমা আর বিয়ে সব নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই নায়িকা।
জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি চক্রবর্তী। ছোটবেলা কেটেছে সেখানেই। কাজের সূত্রে কলকাতায় আসার পর থেকে সেই শহরে দুর্গাপুজার উৎসবে মাতেন তিনি।
মিমি বললেন, ‘ছবির প্রচারশেষে পুজো নিয়ে মেতে ওঠার পালা। কলকাতার মতো এই আড়ম্বর আর কোথায়? এই যে পাড়ায় পাড়ায় পুরোনো দিনের গান বাজে, আলোয় আলোয় ভরে ওঠে চারিদিক, কত মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন, এতেই মন ভাল হয়ে যায়।’
নিজের বাড়িতেই পুজোয় অঞ্জলি দেন মিমি। সবার হাতে ফুল তুলে দেন, পাড়ার সবার সঙ্গে কাজে হাত লাগান। আর পুজোর দিনে খানিক নিয়মের বিরুদ্ধে হাঁটতে হয় তাকে। পুজোর ক’টা দিন শাড়িতে সেজে ওঠেন মিমি। পুরোনো দিনের গয়না তার পছন্দ, তাই কখনও কখনও মায়ের গয়নাতেও সেজে ওঠেন মিমি। তিনি জানান, ‘এই ক’দিন ঝলমলে শহরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া চলবে। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ তো থাকবেই। আর পছন্দের শাড়ি পরে অঞ্জলি দেবো।'
পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে মিমির সিনেমা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। পুজোর আগে এই ছবির প্রচারে ব্যস্ত তিনি। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেকদিনের আলাপ হলেও এই প্রথম তার পরিচালনায় কাজ করলেন মিমি। কেমন অভিজ্ঞতা তার? নায়িকা বলেন ‘সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক দিনের আলাপ। কিন্তু ওর সঙ্গে কাজে অনেক বাধা ছিল। তবে আমি মনে করি, সবকিছুরই একটা সঠিক সময় থাকে, আর তাতেই সঠিক জিনিসটা হয়।’
ছবিতে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে সুমিত্রার চরিত্রে দেখা যাবে মিমিকে। চরিত্রটির জন্য কীভাবে প্রস্তুত হয়েছিলেন মিমি। এ প্রসঙ্গে কথা উঠতেই নায়িকা বলেন, ‘গানের ওপারে’-এর ‘পুপে’-র আদলে এই চরিত্র তৈরি করেছেন সৃজিত দা। আমায় প্রথমেই পুপের রেফারেন্স দিয়েছিলেন। পিরিয়ড ছবিতে এমনিও অনেক হোমওয়ার্ক থাকে। আর অবশ্যই মাথায় রাখতে হয় আমি যেন কাউকে ছোট না করি। এমনিও কোনো ছবি শুরু হওয়ার আগে এখনও ঘুমোতে পারি না চিন্তায়। এ বার সেটা আরও বেশি ছিল। আমি পনেরো মিনিট আগে সেটে পৌঁছে যেতাম, কেউ বকা খাচ্ছে কি না দেখতাম।’
মিমির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সৃজিত জানিয়েছিলেন ‘মিমির মধ্যের আগুনটা সুমিত্রার চরিত্রের মধ্যেও আছে। এই বছরের পুজো কী বিশেষ মিমির কাছে। নয়িকা নিজে কিছু না বললেও তিনি নাকি ডিসেম্বরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন, সূত্রের খবর এমনই। যদিও এ প্রশ্ন করতেই খানিক লাজুক হাসি হেসে তার মত, ‘আমিও শুনছি আমার বিয়ে।’
নায়িকার কেমন পাত্র পছন্দ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালো মানুষ হবে। আমার খুব ভালো বন্ধু হবে। খুব ফান লাভিং হবে। আর আমি যেমন ঘুরতে ভালবাসি তেমন ভালবাসবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার বাচ্চাদের খুব ভালবাসবে।’
লজ্জায় লাল হয়েই খানিক সামলে নিলেন নিজেকে। বললেন, বিয়ে খেতে আমার ভালোই লাগে। তবে একটু নিরামিষ খাবার বেশি রাখবেন। আমি তো মাছ-মাংস খাই না, তাই।’ বিয়ে কবে, জিজ্ঞেস করতেই ফের হাসি হাসতে হাসতে বলেন, ‘যখন বিয়ে হবে, তখন বিয়ে নিয়ে ভাববো।’