বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে ৬ মসজিদ

ফিচার ডেস্ক
নতুনধারা
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৩

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৬টি মসজিদ। এগুলো হলো— জামে আরদেস্তান, জামে জাভারে, আগাবোজর্গ কাশান, জামে নাটাঞ্জ, জামে এশতারজান এবং জামে নাইইন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সম্পাদিত পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
ফারস সংবাদ সংস্থার ইসফাহান কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফালাভারজান কাউন্টি ইসফাহান প্রদেশের গভর্নর ও একদল প্রাদেশিক কর্মকর্তার আতিথ্য করেছে। এই সফরে ইসফাহানের গভর্নর প্রদেশের ঐতিহাসিক ও মূল্যবান নিদর্শনগুলোর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পর্যটন উন্নয়ন ও প্রসার এই প্রশাসনিক মেয়াদে ইসফাহানের গভর্নরের অন্যতম কর্মসূচি।
এ সফরে ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প বিভাগের মহাপরিচালক আমির করমজাদে ঘোষণা করেন যে, ঐতিহাসিক ইশতারজান জামে মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধনের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এই স্থাপনার জরুরি সংস্কারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তার মতে, মসজিদের তাৎক্ষণিক সংস্কারের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন তুমান এবং ফালাভারজান কাউন্টিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ১৫ বিলিয়ন তুমান বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প বিভাগের মহাপরিচালক আরও জানান, এই মসজিদটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধনের জন্য মনোনীত ৩৬টি মসজিদের একটি; এর মধ্যে ইসফাহান প্রদেশ থেকে ছয়টি মসজিদ এই তালিকায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আইনি ও ব্যবস্থাপনাগত বাধা দূর করা অপরিহার্য।
করমজাদে আরও জানান, মসজিদের পাশ্ববর্তী একটি জমির ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন সমস্যা সমাধান করে সাংস্কৃতিক পরিসর ও হোসেইনিয়া উন্নয়নের বিষয়টি চলমান কর্মসূচিগুলোর অন্যতম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে ঐতিহাসিক নিদর্শনের সুরক্ষা সীমার কোনো ক্ষতি না করে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগের মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মসজিদে সীমিত পরিসরে যে সংস্কারকাজ করা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিলে এর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ইশতারজান জামে মসজিদের ইরানি–ইসলামি স্থাপত্য বিষয়ক জাতীয় উৎসবটিও এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং এর বিশ্ব নিবন্ধনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে—যে পথ এই প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিচিতির ক্ষেত্রে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
প্রায় ১৫০০ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট ইশতারজান জামে মসজিদ ফালাভারজান কাউন্টির অন্যতম অতি মূল্যবান নিদর্শন। এর নির্মাণকাল অন্তত সেলজুক যুগ পর্যন্ত গড়ায় এবং ইলখানি আমলে এটি আরও বিকশিত ও সম্প্রসারিত হয়।
এই সুন্দর মসজিদে ইরানি মসজিদের সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান— যেমন প্রধান প্রবেশদ্বার ও পৃথক প্রবেশপথ, সাহন (উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ), পূর্ব ও পশ্চিম এবং শীতকালীন নামাজঘর, গম্বুজকক্ষ, মেহরাব ও মাকসুরা। মসজিদের উত্তর দিকের প্রধান প্রবেশদ্বারটি ইরানি স্থাপত্যের বিবর্তনের ধারায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই অংশে দুটি মিনার ও ১২ মিটার উচ্চতার একটি উঁচু ইওয়ান রয়েছে, যা উৎকৃষ্ট মানের স্টুকো কাজ, টাইলস ও ইটের অলংকরণে সুশোভিত। 
এছাড়া টাইলস, পাথর ও প্লাস্টার দিয়ে তৈরি বহু গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি এই মসজিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য।
ইশতারজান জামে মসজিদটি ১৩১৫ সালের ১২ এসফান্দ (১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) তারিখে ২৬৩ নম্বর হিসেবে ইরানের জাতীয় ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয়।
পর্যটন খাতের কর্মীরা ইসফাহান প্রদেশের ৬টি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মসজিদকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক জানান যে, এই প্রদেশের ৬টি ঐতিহাসিক মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং একই সঙ্গে ২০০টি ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্পের সংস্কারকাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
করমজাদে আরও বলেন, ইসফাহান প্রদেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ঐতিহাসিক ও সুন্দর মসজিদসমূহ। ইসফাহান প্রদেশের ৬টি মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই নির্বাচন মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সম্পাদিত পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
নির্বাচিত মসজিদগুলো হলো- জামে আরদেস্তান মসজিদ, জামে জাভারে মসজিদ, আগা বোযর্গ কাশান মসজিদ, জামে নাটাঞ্জ মসজিদ, জামে ইশতারজান মসজিদ এবং জামে নাইইন মসজিদ।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগের মহাপরিচালক আরও জানান, আরও দুটি মসজিদ- ‘বারসিয়ান’ মসজিদ ও ‘নেইর’ মসজিদ—কে বিশ্ব নিবন্ধনের নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি