ইরানের বিরুদ্ধে টানা সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৫
ফাইল ছবি


ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, এমন অভিযান শুরু হলে তা দুই দেশের মধ্যে আগের যেকোনও সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।  
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজারো অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ নানা সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা মার্কিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ধারণা করছে যে ইরান পাল্টা জবাব দেবে, যার ফলে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিশোধমূলক হামলা বা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন কোনও মন্তব্য করেনি। 
শুক্রবার উত্তর ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও ভয় দেখানোই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায় হয়ে দাড়ায়।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, “ইরান বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব বিকল্পই খোলা আছে। তিনি আরও বলেছেন, “ট্রাম্প বিভিন্ন মতামত শোনেন, তবে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনও মন্তব্য করেনি।   
এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ওমানে উভয় দেশের কূটনীতিকরা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব তারা নাকচ করেছে।