গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে কংগ্রেসম্যান ম্যাককলের সতর্কতা

মার্কিন আগ্রাসন হলে ‘ন্যাটোর সঙ্গেই যুদ্ধ’!

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪২

ওয়াশিংটন—রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইকেল ম্যাককল সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক আগ্রাসনে যায়, তাহলে তা ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শামিল হবে এবং এর ফলে ন্যাটো জোট কার্যত ভেঙে পড়তে পারে। 
রোববার এবিসির রাজনৈতিক অনুষ্ঠান “দিস উইক”-এ সহ-সঞ্চালক জনাথন কার্লের প্রশ্নের জবাবে ম্যাককল এই মন্তব্য করেন। কার্ল প্রশ্ন তোলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান, ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর শুল্ক আরোপ এবং গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা—এসবের অর্থ কী। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান এমেরিটাস ম্যাককল বলেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই এবং অতীতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অঞ্চলটি অধিগ্রহণের বিষয়টি ভেবেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি বিদ্যমান চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের “পূর্ণ সামরিক প্রবেশাধিকার” আছে। ফলে আগ্রাসনের কোনো যুক্তি দাঁড়ায় না। ম্যাককল বলেন, “বাস্তবতা হলো, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্টের ইতোমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে পূর্ণ সামরিক প্রবেশাধিকার রয়েছে। যদি তিনি গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, সেটা এক কথা। কিন্তু সামরিকভাবে আগ্রাসন চালালে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫–এর সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটা হবে এবং কার্যত ন্যাটোর সঙ্গেই যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। এতে আমরা যে ন্যাটোকে জানি, সেটাই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাইলে সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে পারি—আগ্রাসনের দরকার নেই। কিনতে চাইলে সেটা আলাদা বিষয়!  কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো আগ্রহী বিক্রেতা আছে বলে আমি মনে করি না।”  
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ম্যাককলের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখলকে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত হিসেবে দেখানোকে “মিথ্যা” বলে আখ্যা দেন। ভ্যান হোলেন বলেন, “ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে। সেখানে আমাদের ইতোমধ্যেই একটি সামরিক ঘাঁটি আছে, এবং সেটি আমরা সম্প্রসারণও করতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “এটা নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। এটা জমি দখলের চেষ্টা। ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের দখল নিতে চান—যেমন ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও আসল উদ্দেশ্য মাদক দমন ছিল না।” 
গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারে কংগ্রেস কী করতে পারে—এমন প্রশ্নে ভ্যান হেলেন বলেন, কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন প্রয়োগ করতে পারে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন সব তহবিল বন্ধ করে দিতে পারি, অথবা ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু অনেক রিপাবলিকান সহকর্মী ভোটের সময় এলে পিছিয়ে যান। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও আমরা সেটাই দেখেছি। তাদের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্ল‍্যাঙ্ক চেক দেওয়া বন্ধ করতে হবে।” 
এছাড়া ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার খবরে ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিরও সমালোচনা করেন ভ্যান হোলেন। তিনি বলেন, “ইরানে গণতন্ত্র চাপিয়ে দিতে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে আমি নই। আমরা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করতে পারি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন ইঙ্গিত দেওয়া উচিত নয় যে আমরা সেখানে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে সরকার উৎখাত করব।”