নিপা ভাইরাস কি কোভিডের চেয়েও বিপজ্জনক?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
  ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৬

কোভিড-১৯-এর স্মৃতি এখনো অক্ষত। লকডাউন, কোয়ারান্টিন, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের মতো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা মানুষ এখনো ভোলেনি। এরই মধ্যে নতুন আতঙ্ক নিপা ভাইরাস। স্বাভাবিকভাবেই যা ভয় ধরিয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। কিন্তু এ রোগ কি কোভিডের মতোই বিপজ্জনক? নিপা কতটা ভয়ের, কতটা আতঙ্কের? 
এ বিষয়ে জানাচ্ছেন কল্যাণী এমসের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের চিকিৎসক সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘নিপা ভাইরাস’ অত্যন্ত সংক্রামক। প্রাণঘাতীও বটে। তবে এর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। কোভিড মূলত মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। নিপা পশু থেকে মানুষে। পোষা শুয়োর বা গরু-ছাগল বাদুড়ের খাওয়া ফল খেলে তারাও বাহক হয়ে উঠতে পারে। 
সায়ন্তন বলেন, গৃহপালিত পশু এ ক্ষেত্রে বাহকের কাজ করে। চীন থেকে ছড়ানো কোভিডের ক্ষেত্রেও বাদুড়ের নাম উঠে এসেছিল। তবে সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ মূলত ঘটেছিল মানুষ থেকে মানুষে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ড্রপলেট’ থেকে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণে ‘বডি ফ্লুইড’ -এর ভূমিকা উঠে এসেছে গবেষণায়।
এর কতগুলো উপসর্গ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কল্যাণী এমসের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের এ চিকিৎসক। তিনি বলেন, সাধারণ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছাড়াও স্নায়ুর সমস্যা, খিঁচুনি— এমনকি এনসেফেলাইটিসও দেখা দিতে পারে। ফলে ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি উপসর্গ দেখে পরবর্তী ধাপে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন। নিপার ক্ষেত্রে ৪ থেকে ১৪ দিনের মাথায় উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সায়ন্তন বলেন, কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকুন। তবে খেজুরের গুড় খাওয়া নিরাপদ। কারণ রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানালে এতে ভাইরাস মরে যায়। বাদুড় বা চামচিকে খেজুর গাছের আশপাশে থাকে। এখন তাদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো। গবেষক বা পশুপ্রেমী হলেও বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
কোভিডের ক্ষেত্রে টিকা থাকলেও নিপা ভাইরাসের কোনো টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। দুটির ক্ষেত্রেই আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং পরীক্ষা করানো জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, শ্বাসকষ্ট এবং এনসেফেলাইটিস একসঙ্গে হচ্ছে কিনা। আক্রান্তের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোভিডের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এগুলোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তি কার কার সংস্পর্শে এসেছেন, তা নির্ধারণ করে দ্রুত পরীক্ষার প্রয়োজন বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা।