
হৃদরোগ বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সময়মতো সচেতন হলে এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, লবণ ও চিনি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বেড়ে যায়, যা হৃদরোগের প্রধান ঝুঁকি উপাদান। তাই খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। লাল মাংস ও ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং বা হালকা ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে নড়াচড়া করা প্রয়োজন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এগুলো রক্তনালি সংকুচিত করে এবং হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ধূমপান ত্যাগ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত কমতে শুরু করে। মানসিক চাপও হৃদরোগের একটি বড় কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের শরীরের ‘ভালো কোলেস্টেরল’ (এইচডিএল) বাড়ানো এবং ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ (এলডিএল) কমানো অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ এবং আখরোট খুবই উপকারী। প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা ‘ট্রান্স ফ্যাট’ হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্টকে সচল রাখতে রাতে অন্তত সাত-আট ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। কারণ, ঘুমের সময় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি মেরামতের সুযোগ পায়। এ ছাড়া পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল ও ইসিজি করানো উচিত।
লেখক : কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ।