আমরা মার্কিনিদের অপেক্ষায় আছি: ইরান

ইরানে স্থল আক্রমণ ‘সময়ের অপচয়’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৭
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

ইরানের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের স্থল অভিযান চালানোকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ভূমিকা থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে ইরানের আশঙ্কার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সময়ের অপচয়। তারা ইতোমধ্যে সব হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে; যা কিছু হারানো সম্ভব, তার সবই তারা হারিয়েছে।’
তবে ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে সবকিছু নির্মূল করে দিতে চাই।’ এক ফোনালাপে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে চাই না, যে আগামী ১০ বছর ধরে আবার সবকিছু পুনর্গঠন করবে।’
ইরানের পরবর্তী শাসক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের তালিকায় কারা আছেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনও নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানান, ‘আমরা চাই তাদের একজন ভালো নেতা থাকুক। আমাদের নজরে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এই কাজটি খুব ভালোভাবে করতে পারবেন বলে আমি মনে করি।’
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, ওই পছন্দের ব্যক্তিদের যেন যুদ্ধে প্রাণ হারাতে না হয়, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তাদের ওপর নজর রাখছি।’
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

আমরা মার্কিনিদের অপেক্ষায় আছি: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনও ধরনের স্থল অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য ‘মহা বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর পাল্টা হুমকি দেওয়া হলো। 
বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন আক্রমণ নিয়ে কোনও ভয় আছে কি না, এমন প্রশ্নে আরাঘচি বলেন, ‘না, আমরা তাদের (মার্কিন বাহিনী) জন্য অপেক্ষা করছি।’ তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, যেকোনও স্থল হামলা মোকাবিলা করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। ইরান সরকারের দাবি, ওই হামলায় তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনও যুদ্ধবিরতি চায়নি বলে জানান আরাঘচি। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেবারও ইসরায়েলই যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল, ইরান নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে কোনও বিজয়ী নেই। আমাদের জয় হলো, আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি।’
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭১ জন স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন আরাঘচি। তিনি জানান, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, এই হামলা কেবল ওই দুটি দেশের পক্ষেই চালানো সম্ভব।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ওয়াশিংটন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও একই কথা জানিয়ে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আব্বাস আরাঘচি জানান, বর্তমানে স্টিভ উইটকফ বা জ্যারেড কুশনারের মতো মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা কখনোই ইতিবাচক ছিল না এবং ওয়াশিংটন সরল বিশ্বাসে আলোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড