
নিউইয়র্কের ব্যস্ততম রেলইয়ার্ড সানিসাইড ইয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হতে যাচ্ছে একটি বৃহৎ প্রকল্প। এখানে ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম ডেক নির্মাণ করা হবে, যার ওপর গড়ে উঠবে ১২ হাজার নতুন সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট। এর মধ্যে ছয় হাজার হবে মিচেল-লামা ধাঁচের দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী বাসস্থান। এতে ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই প্রকল্প নির্মাণের জন্য মেয়র জোহরান মামদানি চেষ্টা করছেন। সেখানে সরকারের সহায়তাও চেয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উঠে এসেছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় বৃহৎ পরিসরে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে ফেডারেল বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
মেয়রের অফিস থেকে জানানো হয়, উত্তর আমেরিকার ব্যস্ততম রেলইয়ার্ড সানিসাইড ইয়ার্ডকে ঘিরে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে ‘এক প্রজন্মে একবার আসা’ সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম ডেক নির্মাণ করা হবে, যার ওপর গড়ে উঠবে ১২ হাজার নতুন সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট। এর মধ্যে ছয় হাজার হবে মিচেল-লামা ধাঁচের দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী বাসস্থান। এ ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সৃষ্টি হবে ৩০ হাজার মানসম্মত ইউনিয়ন চাকরি এবং এলাকায় যুক্ত হবে নতুন পার্ক, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি গত ৫০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে বড় আবাসন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ হিসেবে ইতিহাসে স্থান নিতে পারে।
বৈঠক শেষে মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি আজ প্রজন্মব্যাপী এক ব্যয়-সংকটের মুখোমুখি। যেসব পরিশ্রমী পরিবার এই শহর গড়েছে, তারা ক্রমেই নিজ নিজ পাড়া থেকে বিতাড়িত হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের এমন এক ফেডারেল অংশীদার দরকার, যারা সাহসী বিনিয়োগ ও দ্রুত পদক্ষেপে প্রস্তুত। ১৯৭৩ সালের পর একক কোনো প্রকল্পে এত বিপুল আবাসন নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
মেয়র জোর দিয়ে বলেন, সাশ্রয়ী আবাসন উন্নয়নে সহায়ক অর্থায়ন কাঠামো শক্তিশালী করা, সরকারি আবাসন সংরক্ষণ এবং শ্রমমান ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ অক্ষুণ্ন রেখে নির্মাণ-প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। তিনি আশ্বস্ত করেন, ফেডারেল তহবিল ব্যবহারে নগর প্রশাসন স্বচ্ছতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে, যাতে প্রতিটি ডলার নিউইয়র্কবাসীর জন্য নিরাপদ ও সত্যিকারের সাশ্রয়ী আবাসনে রূপ নেয়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আগামী সপ্তাহগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন, যা নিউইয়র্ক সিটির আবাসন ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: ঠিকানা