ইমিগ্রেশন অভিযানে জনসমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে রিপাবলিকানরা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৬


 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ইমিগ্রেশন নীতি এখন রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের নামে ফেডারেল এজেন্টরা “সীমা ছাড়িয়ে গেছে”। এই উদ্বেগ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে, যারা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যালেক্স কন্যান্ট বলেন, “দলীয় ভিত্তি এই নীতি পছন্দ করলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের জন্য এটি বড় সমস্যা। তারা শক্ত সীমান্ত চায়, অপরাধীদের ডিপোর্ট করাও চায়, কিন্তু মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে যেভাবে মানুষ আটক করছে—তাতে তারা ভীষণ অস্বস্তিতে।”
মাসের পর মাস আক্রমণাত্মক ইমিগ্রেশন অভিযানের পর ট্রাম্পের সেই ‘সিগনেচার ইস্যু’—যা তাকে দু’বার নির্বাচনে জয় এনে দিয়েছিল—এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দায় হয়ে উঠছে। মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে দ্বিতীয়বারের মতো এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর সমালোচনা চরমে পৌঁছায়।
এনপিআর/ম্যারিস্ট জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনে ৬ জন আমেরিকান ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি অংশও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কৌশল পরিবর্তন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বলেন, “হোয়াইট হাউসকে নতুন করে ভাবতে হবে—কীভাবে জনগণের সেই আস্থা ও সম্মান ফিরিয়ে আনা যায়।”
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মিনিয়াপলিসের ইমিগ্রেশন অভিযানের নেতৃত্বে রদবদল করেন এবং ৭০০ ফেডারেল কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বুঝেছি—হয়তো একটু নরম হওয়া দরকার। তবে কঠোর থাকতেই হবে। আমরা গুরুতর অপরাধীদের নিয়ে কাজ করছি।” তবে এই ‘নরম হওয়া’র বাস্তব অর্থ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করে হার্ভার্ড/হ্যারিস জরিপের উদ্ধৃতি দেন। তার দাবি, “প্রায় ১০ জনে ৮ জন আমেরিকান অপরাধী অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ডিপোর্ট সমর্থন করে। এমনকি বড় একটি অংশ সব অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট ডিপোর্টের পক্ষেও রয়েছে।”
ইমিগ্রেশন নীতিতে জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা প্রশাসনে কাজ করা থেরেসা কার্ডিনাল ব্রাউন মনে করেন, প্রশাসন এখন হয়তো ‘অপারেশনাল বিরতি’ নিয়ে নীতি ও জনসংযোগ—দু’দিক থেকেই কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে। তিনি বলেন, “অপারেশন পরিচালনার সময় রাজনীতি মাথায় থাকে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতি সব কিছুর সঙ্গেই জড়িত।”
মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিও যেমন ভুলের প্রমাণ দিতে পারে, তেমনি সঠিক কাজের পক্ষে শক্ত প্রমাণও হতে পারে—যা প্রশাসন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে ব্যবহার করতে পারবে।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্পের সামনে সময় খুবই সীমিত। অ্যালেক্স কন্যান্টের মতে, ইমিগ্রেশন ইস্যুতে ট্রাম্প যদি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থান হারান, তবে তা শুধু তার জন্য নয়—পুরো রিপাবলিকান পার্টির জন্যই বড় সমস্যায় পরিণত হবে।