
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের উচ্চমূল্য কমাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন একটি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন, যার মাধ্যমে মার্কিন রোগীরা বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছি মূল্যে ওষুধ কেনার সুযোগ পাবেন। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো—এতদিন ধরে যে বাড়তি দামে আমেরিকান রোগীরা ওষুধ কিনে আসছিলেন, সেই বোঝা কমানো এবং বিদেশি দেশগুলোর কম দামের সুবিধা যেন আর মার্কিন ভোক্তাদের ঘাড়ে না পড়ে।
এই উদ্যোগের আওতায় শুরুতেই পাঁচটি বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যয়বহুল প্রায় চল্লিশটি ব্র্যান্ডেড ওষুধের দামে বড় ধরনের ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মাসিক খরচ কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কমে এসেছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু ওষুধের দাম এক হাজার ডলারেরও বেশি থেকে নেমে কয়েকশ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বহু রোগীর জন্য বড় স্বস্তির খবর।
এছাড়া বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলোর ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন মূল্যহ্রাসের ঘোষণা এসেছে। এতদিন যেসব রোগীকে প্রতি চিকিৎসা চক্রে হাজার হাজার ডলার নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হতো, তারা এখন উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা ও ইনসুলিনসহ দৈনন্দিন ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দামও ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ, যেখানে তিনি বলেছিলেন—আমেরিকান রোগীরা আর বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্য ওষুধ কোম্পানির ভর্তুকি বহন করবে না। এর আগে তিনি নির্বাহী আদেশ জারি করে ওষুধের দাম আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার নির্দেশ দেন এবং বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করেন। এমনকি বিদেশি দেশগুলোকেও নতুন ওষুধের ন্যায্য মূল্য পরিশোধে চাপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি ও ওষুধ বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বাস্তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা সময়ই বলবে।