
কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর হাভানা শাখার তথ্য অনুসারে, দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর হাভানার ১৮ সহস্রাধিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা রাজধানীর মোট গ্রাহকের ২ দশমিক ১ শতাংশ।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ সৃষ্টি হওয়ায় কিউবার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।
গড়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। দেশে পেট্রোল ও কেরোসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গত ১৬ মার্চ কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি গ্রিড বিপর্যয়ের খবর জানায়, যার কারণে পুরো দ্বীপ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর আগে ৪ মার্চও একই ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল।
জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক লাজারো গুয়েরা হার্নান্দেজ জানান, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে পুনরুদ্ধারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ১৩ মার্চ রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানান, অন্তত তিন মাস ধরে কিউবা কোনো জ্বালানি সহায়তা পায়নি। এ কারণে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
জনগণের অসন্তোষ ও সরকারের আহ্বান
দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিং নিয়ে জনগণের অভিযোগকে প্রেসিডেন্ট যুক্তিসঙ্গত বললেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুর সহ্য করা হবে না।
১৪ মার্চ সিইগো ডি আভিলা প্রদেশে বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির মিউনিসিপ্যাল কমিটির সদর দপ্তরে পাথর ছুড়ে মারে এবং আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য
নিউ ইয়র্ক টাইমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার নেতা মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে কিউবার অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনাই তাদের লক্ষ্য, যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়।
ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কিউবা দখল করা তার জন্য সম্মানের বিষয় হবে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্রাম্প দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চান না, বরং বর্তমান ‘কট্টরপন্থী’ প্রশাসনকে বশীভূত করতে চান।
সূত্র: তাস।