
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চতুর্থবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যেই আগামী ৮ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন তিনি। আর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকেই শুরু হবে মিছিল। সেখান থেকে গোপালনগরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত পদযাত্রা করে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দলীয় স্তরে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এই মিছিলে উপস্থিত থাকতে পারেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দক্ষিণ কলকাতার নেতা দেবাশিস কুমার। পাশাপাশি ভবানীপুরের সমস্ত কাউন্সিলরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি হচ্ছেন দুই প্রভাবশালী নেতা। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ইতোমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন। সভা, মিছিল এবং জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তৃণমূল এখনও পর্যন্ত সংগঠনিক প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই পূর্ণমাত্রায় প্রচারে নামার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডকে, যেখান থেকে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৪ এপ্রিল বিআর অম্বেডকর-এর জন্মদিনে এই ওয়ার্ড থেকেই প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করা, কর্মীদের সক্রিয় করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে এবারের নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ হবে দ্বিতীয় দফায়। নির্বাচন কমিশন ২ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল।
সব মিলিয়ে, চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মনোনয়ন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৮ এপ্রিলের মিছিল থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ের আসল ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করবে।