পুনর্গঠন নয়, নতুন রূপরেখার নামে গাজাবাসীকে দেওয়া হচ্ছে দাসত্বের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৫ জুন ২০২৬, ২২:২৬

গত কয়েক মাস ধরে এক গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে গেছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ, গণবাস্তুচ্যুতি আর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পরও এই মানবিক বিপর্যয় সমাধানের জন্য নেওয়া রাজনৈতিক উদ্যোগগুলো স্থবির হয়ে পড়ে ছিল। 
এই অচলাবস্থার মধ্যে গত মে মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত এবং বর্তমান ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চপ্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ ১৫ দফার একটি নতুন রূপরেখা নিয়ে হাজির হয়েছেন। এটিকে গাজায় স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং পুনর্গঠন ফিরিয়ে আনার একটি রোডম্যাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে সতর্কতার সঙ্গে সাজানো আমলাতান্ত্রিক ভাষা এবং চতুর ধাপগুলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নির্মম বাস্তবতা। ওয়াশিংটনভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইদ আরিকাত গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
তার মতে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য গাজার পুনর্গঠন নয়, বরং গাজাবাসীকে কোণঠাসা ও বাধ্য করা। মানবিক দায়বদ্ধতার ‘পুনর্গঠন’ প্রক্রিয়াকে এখানে পরিণত করা হয়েছে রাজনৈতিক নিপীড়নের এক মোক্ষম অস্ত্রে।
এই রূপান্তরের বিষয়টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি এই প্রস্তাবের মূল ভিত্তি। প্রস্তাবটির কাঠামো বিশ্লেষণ করলেই এর আসল উদ্দেশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গাজার বিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের জন্য যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজন—সেই বৃহৎ পরিসরের ‘পুনর্গঠন’ বিষয়টি রাখা হয়েছে প্রস্তাবের ১৫ নম্বর অর্থাৎ একেবারে সর্বশেষ দফায়। তাও শর্ত সাপেক্ষে; বলা হয়েছে, কোনো এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা হয়েছে এবং তা গাজার নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এসেছে বলে প্রত্যয়িত হলেই কেবল সেখানে পুনর্গঠন কাজ শুরু হতে পারবে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল বা মৌলিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অধিকার পাওয়ার আগে প্রথম ১৪টি শর্ত পূরণ করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নিং বডি গঠন করা—যা একটি ‘সংস্কারকৃত’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগপর্যন্ত সেখানকার বেসামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো পরিচালনা করবে।
এই ধারাবাহিকতাই বলে দেয় এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী। গাজার ধ্বংসলীলাকে এখানে অবিলম্বে সমাধানযোগ্য কোনো মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং একে ব্যবহার করা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থানুকূল একটি নতুন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার বা ‘লেভারেজ’ হিসেবে। সহজ কথায়, পুনর্গঠনকে এখানে যুদ্ধাস্ত্র বানানো হয়েছে।
এই প্রস্তাবটি মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী সেই পুরোনো ফর্মুলাকেই নতুন করে সামনে এনেছে, যা ইসরাইল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা বারবার বলে আসছে: কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের বাইরে কোনো অস্ত্র বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা পর্যন্ত কোনো পুনর্গঠন হবে না। এর মাধ্যমে গাজার চলমান ধ্বংসযজ্ঞের সমস্ত দায় চাপানো হচ্ছে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ না করার সিদ্ধান্তের ওপর। কিন্তু এই যুক্তি ফিলিস্তিনি বাস্তবতার মূল প্রেক্ষাপটকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়াল করে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র প্রতিরোধ কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি, কিংবা গাজার এই সামরিকায়নকে গত কয়েক দশকের অবরোধ, দখলদারিত্ব, ভূখণ্ড খণ্ডবিখণ্ডকরণ, অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ এবং রাজনৈতিক বিকল্পগুলোর পরিকল্পিত ধ্বংসসাধন থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধকে এর পেছনের মূল কারণগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল মূলত প্রতিরোধকেই মূল সমস্যা হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে, আর ইসরাইলি নিপীড়নের মূল কারণগুলোকে রাজনৈতিকভাবে অদৃশ্য করে দিচ্ছে। সমসাময়িক ফিলিস্তিন কূটনীতিতে এই উলটো বয়ান তৈরি এক বড় বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে ইসরাইলের সীমাহীন ক্ষমতার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে ফিলিস্তিনিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ওপরই পুরো মনোযোগ ধরে রাখা হয়।
এমনকি ম্লাদেনভের এই উদ্যোগের মূল সতর্কবার্তার মধ্যেও এই বৈষম্য স্পষ্ট। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এই রূপরেখা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে গাজার বড় অংশের ওপর ইসরাইলের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সমঝোতার একটি সতর্ক আহ্বান মনে হলেও, কার্যত এটি একটি রাজনৈতিক আলটিমেটাম: চাপিয়ে দেওয়া এই পরিকল্পনা মেনে নাও, অন্যথায় যুদ্ধের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ভূখণ্ডগত বাস্তবতাকে চিরস্থায়ী হতে দেখো। এই ধরনের কূটনীতি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কাজ করে না, এটি কাজ করে পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে ক্লান্ত ও নিঃশেষ করার মাধ্যমে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এই উদ্যোগের সময়কাল। এটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরাইলের রাজনীতি আরেকটি নির্বাচন চক্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যখন যেকোনো অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতা প্রায় অসম্ভব। ইসরাইলি রাজনীতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর নিরাপত্তা নীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এই প্রবণতা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের সমাধানের কোনো দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নয়, বরং কে কত বেশি সামরিক কঠোরতা দেখাতে পারে, কত বেশি শাস্তিমূলক নীতি প্রস্তাব করতে পারে এবং কতটা চরমপন্থী বক্তব্য দিতে পারে—তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে। এই আবহে যেকোনো ধরনের উদারতা প্রদর্শন নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হতে পারে।
এই রাজনৈতিক বাস্তবতা ম্লাদেনভের মতো মধ্যস্থতাকারীদের কাজের পরিধিকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করে দেয়। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে গাজাবিষয়ক এই বৃহত্তর কাঠামোর তদারকির জন্য নিযুক্ত করেছেন, তবুও তার কার্যকারিতা কেবল ইসরাইলের বেঁধে দেওয়া সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে হয়। গাজা প্রশাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের মাসের পর মাস নিষ্ক্রিয়তা, যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা এবং স্থবিরতার কারণে পদত্যাগের প্রস্তাব দেওয়ার খবরটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। এই উদ্যোগটি শুরু থেকেই এমন কিছু কাঠামোগত বাস্তবতার দ্বারা শৃঙ্খলিত ছিল, যা কোনো দূতের পক্ষেই অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
কমিটির এই পঙ্গুত্ব পুরো প্রক্রিয়ার আসল চরিত্রকে আরও ফুটিয়ে তোলে। এটি আন্তর্জাতিক আইন বা নিরপেক্ষ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো স্বাধীন মধ্যস্থতা নয়। এটি আসলে ইসরাইলের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখার ভেতরে থেকে পরিচালিত একটি মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রকল্প। ফলে, এই উদ্যোগ শান্তির কোনো মাধ্যম হওয়ার চেয়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনিদের বিভক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি কৌশলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর বড় বিপদটি বর্তমান প্রস্তাবের চেয়েও সুদূরপ্রসারী। পুনর্গঠন যদি স্থায়ীভাবে রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হবে: মানবিক পুনরুদ্ধার আর বেসামরিক নাগরিকদের প্রাপ্য কোনো অধিকার থাকবে না। মৌলিক বেসামরিক প্রয়োজনগুলো তখন বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বণ্টন করা শর্তসাপেক্ষ সুযোগ-সুবিধায় পরিণত হবে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এর ফলে বেসামরিক মানুষের কষ্ট ও হাহাকারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে। শাসক গোষ্ঠীগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ফলাফল না আসা পর্যন্ত একটি সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাঁচতে বাধ্য করা যাবে। পুনর্গঠন তখন আর মানুষের জীবন বাঁচানোর কোনো মানবিক উদ্যোগ থাকবে না, এটি হয়ে উঠবে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা শেখানোর এক বৃহত্তর দমনমূলক ব্যবস্থা।
ইতিমধ্যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ব্যবস্থাকে ‘বাস্তবসম্মত প্রগতি’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া অসম ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো কাঠামো কখনো স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না। চরম ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি সাময়িকভাবে অসন্তোষকে রাখতে পারলেও, তা সংঘাতের মূল কারণগুলোকে নির্মূল করতে পারে না। বরং, এগুলো ক্ষোভকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং ভবিষ্যতের আরও বড় বিস্ফোরণের পথ তৈরি করে।
গাজার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য। সেখানকার প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংসের পুনরাবৃত্তিমূলক চক্র দেখেছে, যার পর শুরু হয় আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া—যা ভেতরের মূল রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখে দেয়। অবকাঠামো কেবল নামমাত্র এবং বেছে বেছে মেরামত করা হয়, মানবিক সহায়তা সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়ে, কূটনৈতিক বিবৃতির বন্যা বয়ে যায় এবং এরপর আবার সেই একই ধ্বংসের চক্র শুরু হয়।
বর্তমান উদ্যোগটি সেই একই ব্যর্থ ধারার পুনরাবৃত্তি করার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল গলদ হলো এই ভুল ধারণা যে, দখলদারিত্ব, অবরোধ এবং কাঠামোগত বৈষম্যের বাস্তবতার মুখোমুখি না হয়ে কেবল শর্তসাপেক্ষ পুনর্গঠনের লোভ দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বঞ্চনার ওপর ভিত্তি করে চাপিয়ে দেওয়া স্থিতিশীলতা স্বভাবগতভাবেই ভঙ্গুর। যে জনগোষ্ঠীকে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, তাদের প্রশাসনিক চাতুর্যের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে বশ মানানো অসম্ভব।
গাজার অবশ্যই পুনর্গঠন প্রয়োজন। কিন্তু রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ছাড়া কেবল জোড়াতালির পুনর্গঠন আসলে ভবিষ্যতের আরেকটি বড় পতনের অবকাঠামো তৈরি করার শামিল।
সে কারণেই আসল সমস্যা এটি নয় যে, ম্লাদেনভের ১৫ দফার এই উদ্যোগটি কারিগরি দিক থেকে সফল হবে নাকি ব্যর্থ হবে। গভীর সমস্যাটি হলো এর পেছনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা: এই বিশ্বাস যে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এবং মানবিক পুনরুদ্ধার সব সময় শর্তসাপেক্ষ, বিলম্বিত এবং বহিরাগতদের নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশের অধীন হয়ে থাকবে।
যত দিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতি এই বৈষম্যমূলক চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হবে, তত দিন গাজা এই অন্তহীন গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে থাকবে: যেখানে পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি বারবার দেওয়া হবে, বেছে বেছে কিছু বাস্তবায়ন করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত তা সংঘাত সমাধানের জন্য নয়, বরং সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতিগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।